ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে একজোট হয়েছে দেশটির প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। নতুন জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যে দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বসম্মত সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন বিরোধী নেতারা। তবে সরকারে আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে বিরোধী শিবিরের ভেতরেই তীব্র বিতর্ক ও মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) তেল আবিবের উত্তরে হার্জলিয়ায় বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতাদের এক জরুরি বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়। গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর এটিই ছিল ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর প্রথম আনুষ্ঠানিক যৌথ বৈঠক।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৈঠকে অংশ নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, ইসরাইল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান, ডেমোক্র্যাটস পার্টির ইয়ার গোলান, ইয়েশ আতিদ পার্টির নেতা ইয়ার লাপিদ এবং ইয়াশার পার্টির গাদি আইজেনকট। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে সব বিরোধী দল একযোগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকটের নাম সুপারিশ করবে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থী প্রশাসনকে বিদায় জানিয়ে একটি ‘জাতীয় জরুরি সরকার’ গঠনের রূপরেখা ও নীতি দ্রুত চূড়ান্ত করা হবে।
আইজেনকটের প্রস্তাবিত চারটি মূলনীতির প্রতিও বিরোধী দলগুলো প্রাথমিক সমর্থন জানিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান দুটি শর্ত হলো—সরকারের শরিক দলগুলোকে ইসরাইলকে একক ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করতে হবে। তবে এই শর্তাবলির কারণে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর জোটে অন্তর্ভুক্তি জটিল রূপ নিতে পারে।
১২০ আসনের নেসেটে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ৬১টি আসন পায়নি। বর্তমান ফলাফলে দেখা গেছে:
নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট: ৫৩টি আসন (যার মধ্যে একক বৃহত্তম দল হিসেবে লিকুদ পার্টি পেয়েছে ২৭টি)।
ইহুদি বিরোধী জোট: ৪৮টি আসন।
আরব নেতৃত্বাধীন দলসমূহ: ১৯টি আসন (জয়েন্ট লিস্ট ১১টি এবং রা'আম পার্টি ৮টি)।
ফলাফল অনুযায়ী, সরকার গঠনের পুরো সমীকরণ ও নিয়ন্ত্রণ এখন ১৯টি আসন পাওয়া আরব দলগুলোর হাতে। তবে আরব দলগুলোকে সরকারে নেওয়ার প্রশ্নে বিরোধী নেতারা বিভক্ত। ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান আরবদের বাদ দেওয়াকে ‘বর্ণবাদী আচরণ’ আখ্যা দিয়ে তাদের সঙ্গে জোটের পক্ষে মত দিয়েছেন। অপরদিকে চরমপন্থী হিসেবে পরিচিত আভিগদর লিবারম্যান আরবদের সরাসরি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির তীব্র বিরোধিতা করছেন, যদিও তিনি নতুন নির্বাচন এড়াতে আগ্রহী। জয়েন্ট লিস্টের প্রধান ইউসেফ জাবারিন জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটাতে বিরোধী দলগুলোকে বাস্তববাদী হতে হবে।
এদিকে নেতানিয়াহু নিজের নেতৃত্বে একটি ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রস্তাব দিলেও বিরোধীরা তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বুধবার ও বৃহস্পতিবার নেসেটের নির্বাচিত দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পরামর্শ শুরু করবেন। আরব দলগুলো আইজেনকটকে শর্তসাপেক্ষে সমর্থন দিলে তাঁর ঝুলিতে মোট ৬৭টি সুপারিশ জমা পড়বে, যা নেতানিয়াহুর দীর্ঘ ক্ষমতার ইতি ঘটিয়ে নতুন সরকারের পথ তৈরি করবে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা














মন্তব্যসমূহ