ঢাকা    রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ট্রাম্পের ‘শেষ করার’ হুমকির পর টার্গেট বাড়াল ইরান

ট্রাম্পের ‘শেষ করার’ হুমকির পর টার্গেট বাড়াল ইরান
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালালে তার পাল্টা জবাব কেবল জাতীয় সীমানার ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি। যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা উসকানির তাৎক্ষণিক ও কার্যকর সামরিক জবাব নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক প্রতিঘাতের জন্য শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুর (টার্গেট) তালিকা আরও বিস্তৃত ও হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম আনুষ্ঠানিক নীতিনির্ধারণী বৈঠকে মোজতবা খামেনি এই চূড়ান্ত নির্দেশনা দেন বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

বিবৃতি অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা সামরিক নেতৃত্বকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘যেকোনো স্তরের বা ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক ও কার্যকর সামরিক জবাব দিতে হবে। আর এই জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা বা বাধানিষেধ মানা হবে না।’ তিনি সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ‘আমেরিকান ও জায়নবাদী শত্রুদের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব ধরনের সম্পদ ও স্থাপনা’ অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা আরও বড় করার তাগিদ দেন।

শীর্ষ এই বৈঠকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আবদোল্লাহি, সেনাপ্রধান আমির হাতামি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমাদ ওয়াহিদি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের বিষয়ে দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকারামিনিয়া স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, নতুন করে শত্রুতা শুরু হলে যুদ্ধের আগুন আরও বড় ভৌগোলিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য, আগামী ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর পরপরই ইরানে নতুন করে সর্বাত্মক আঘাত হানার হুমকি দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, তিনি ইরানকে ‘একেবারে শেষ করে দেওয়ার’ কথা ভাবছেন। অন্যদিকে গত ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট গঠিত হলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানি শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক’ সুযোগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে এই সর্বাত্মক যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে আট মাস ধরে পাল্টাপাল্টি সংঘাত চলায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়। বর্তমানে সরাসরি হামলা সাময়িক বন্ধ থাকলেও যেকোনো সময় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বিরাজ করছে। উত্তেজনা প্রশমনে কাতারের মধ্যস্থতাকারী দল তেহরানে আলোচনা চালাচ্ছে এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজায়ির কাছে সমঝোতার চিঠি পাঠালেও সরাসরি মার্কিন কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তেহরান।

সূত্র: আল জাজিরা

ট্যাগ : ইরান ডোনাল্ড ট্রাম্প

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


ট্রাম্পের ‘শেষ করার’ হুমকির পর টার্গেট বাড়াল ইরান

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালালে তার পাল্টা জবাব কেবল জাতীয় সীমানার ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি। যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা উসকানির তাৎক্ষণিক ও কার্যকর সামরিক জবাব নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক প্রতিঘাতের জন্য শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুর (টার্গেট) তালিকা আরও বিস্তৃত ও হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম আনুষ্ঠানিক নীতিনির্ধারণী বৈঠকে মোজতবা খামেনি এই চূড়ান্ত নির্দেশনা দেন বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

বিবৃতি অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা সামরিক নেতৃত্বকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘যেকোনো স্তরের বা ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক ও কার্যকর সামরিক জবাব দিতে হবে। আর এই জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা বা বাধানিষেধ মানা হবে না।’ তিনি সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ‘আমেরিকান ও জায়নবাদী শত্রুদের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব ধরনের সম্পদ ও স্থাপনা’ অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা আরও বড় করার তাগিদ দেন।

শীর্ষ এই বৈঠকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আবদোল্লাহি, সেনাপ্রধান আমির হাতামি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমাদ ওয়াহিদি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের বিষয়ে দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকারামিনিয়া স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, নতুন করে শত্রুতা শুরু হলে যুদ্ধের আগুন আরও বড় ভৌগোলিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য, আগামী ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর পরপরই ইরানে নতুন করে সর্বাত্মক আঘাত হানার হুমকি দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, তিনি ইরানকে ‘একেবারে শেষ করে দেওয়ার’ কথা ভাবছেন। অন্যদিকে গত ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট গঠিত হলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানি শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক’ সুযোগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে এই সর্বাত্মক যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে আট মাস ধরে পাল্টাপাল্টি সংঘাত চলায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়। বর্তমানে সরাসরি হামলা সাময়িক বন্ধ থাকলেও যেকোনো সময় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বিরাজ করছে। উত্তেজনা প্রশমনে কাতারের মধ্যস্থতাকারী দল তেহরানে আলোচনা চালাচ্ছে এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজায়ির কাছে সমঝোতার চিঠি পাঠালেও সরাসরি মার্কিন কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তেহরান।

সূত্র: আল জাজিরা


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ