রাজধানীর উপকণ্ঠ টঙ্গী সংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পুলিশ জানিয়েছে, বাহ্যিকভাবে তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি; তবে উদ্ধারের সময় তাঁর নাক দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) বিকাল পৌনে ৬টার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।
সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহত তাহসিফ সাউরির আনুমানিক উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। মাথার চুল কালো, মুখে ছোট ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল। উদ্ধারের সময় তাঁর চোখ ও মুখ বন্ধ ছিল এবং নাক দিয়ে তরল রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। এছাড়া তাঁর দুই হাত মাথার সামনের দিকে কিছুটা বাঁকানো ও মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় ছিল এবং পেট ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা ফোলা। তবে বুক, পেট, পিঠ, দুই পা ও গোপনাঙ্গ স্বাভাবিক ছিল এবং কোনো ধরনের ধারালো বা ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতের দাগ মেলেনি।
উদ্ধারের সময় তাঁর পরনে ছিল কালো রঙের ফুলহাতা কাবলি শার্ট ও সাদা ট্রাউজার। তাঁর হাতে একটি ঘড়ি এবং পরিহিত পোশাকের পকেটে একটি মূল্যবান আইফোন সচল অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই দ্রুত তাঁর পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয় নৌপুলিশ। পরবর্তীতে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের লক্ষ্যে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত কে এম তাহসিফ সাউরির স্থায়ী বাড়ি খুলনা জেলার সোনাডাঙ্গা এলাকায় হলেও তিনি রাজধানীর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে বসবাস করছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে সামরিক পরিবহণ বিমানে ওঠার ঐতিহাসিক সেই দৃশ্যটি তাহসিফ সাউরিই সরাসরি ক্যামেরাবন্দী করেছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জোর আলোচনা রয়েছে। তাঁর এমন আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
মন্তব্যসমূহ