নির্বাসন পেরিয়ে ক্ষমতার খুব কাছে তারেক রহমান: রয়টার্স

- আপডেট: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 9
দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তিনি এখন বাংলাদেশে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের একেবারে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, লন্ডনে প্রায় বিশ বছর নির্বাসনে কাটিয়ে দেশে ফেরার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তারেক রহমান এমন এক নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়েছেন, যা তাকে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সামনে নিয়ে আসতে পারে। এই দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তিনি সেই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারেন, যেটি এক সময় শাসন করেছেন তার বাবা ও মা।
রয়টার্সের মতে, চলমান জনমত জরিপগুলো যদি বাস্তব প্রতিফলন ঘটায়, তবে বৃহস্পতিবারের নির্বাচন হবে ৬০ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের জন্য এক নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের মুহূর্ত। ২০০৮ সালে তৎকালীন সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর চিকিৎসার অজুহাতে তিনি দেশ ছাড়েন এবং এরপর দীর্ঘ সময় বিদেশেই অবস্থান করেন।
প্রায় দুই দশক পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। তার আগেই ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত এক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
বর্তমানে শেখ হাসিনা ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এক সময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করেছিলেন শেখ হাসিনা ও তারেক রহমানের মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তারেক রহমানের বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ছিলেন, যিনি ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করেন।
রয়টার্স জানায়, তারেক রহমান ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য আনার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি এমন একটি কূটনৈতিক অবস্থান চাচ্ছেন, যেখানে দেশটি কোনো একক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হবে না এবং একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যাবে।
অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা বাড়ানো, পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খেলনা ও চামড়াজাত পণ্যের মতো নতুন শিল্পখাত বিকাশ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে প্রধানমন্ত্রীদের জন্য মেয়াদসীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, দেশে ফেরার পর থেকে সময় যেন চোখের পলকে কেটে যাচ্ছে। ঢাকায় নিজের পরিবার নিয়ে ফেরার পর ঘটনাপ্রবাহ এত দ্রুত এগোচ্ছে যে, সময়ের হিসাব করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্ম নেওয়া তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনা শুরু করলেও তা শেষ করেননি। পরবর্তীতে তিনি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশে ফেরার পর তারেক রহমান নিজেকে এমন একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন, যিনি অতীতের রাজনৈতিক সংঘাত ও ব্যক্তিগত নির্যাতনের ঊর্ধ্বে উঠে সামনে এগোতে প্রস্তুত। বিএনপির ২০০১–২০০৬ মেয়াদের সময় তার প্রভাব নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তিনি সব সময়ই নেপথ্যে ক্ষমতা পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।
রয়টার্সকে তিনি বলেন, প্রতিশোধ রাজনীতির কোনো সমাধান নয়। তার ভাষায়, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শান্তি ও স্থিতিশীলতা।
শেখ হাসিনার শাসনামলে একাধিক দুর্নীতি মামলায় অনুপস্থিত অবস্থায় দণ্ডিত হন তারেক রহমান। ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলার মামলায়ও তাকে সাজা দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসেন। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এসব মামলায় তিনি খালাস পান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ফেরার পর তার বক্তব্য ও আচরণে সংযম লক্ষ করা যাচ্ছে। সংঘাতপূর্ণ ভাষা এড়িয়ে তিনি সংলাপ, সহাবস্থান ও প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কথা বলছেন। এতে বিএনপির ভেতরে নতুন উদ্দীপনাও সৃষ্টি হয়েছে।
দলীয় সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, বিএনপির অভ্যন্তরে তারেক রহমানের নিয়ন্ত্রণ এখন সুসংহত। প্রার্থী নির্বাচন ও রাজনৈতিক জোট সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো তিনি সরাসরি তদারকি করছেন।
গণতন্ত্র প্রসঙ্গে তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তা টিকিয়ে রাখাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য। তার মতে, গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমেই জবাবদিহি ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।





























