ঢাকা ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিবাজ প্রভাবশালীদের প্রকাশ্যে শাস্তি: চরমোনাই পীর যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের হুমকিতেও ভীত নয় ইরান: আরাগচি জামায়াতের মিছিলে যাওয়ায় শিশু সাজ্জাদকে লাথির অভিযোগ, বিএনপি কর্মী গ্রেপ্তার ফজলুর রহমান বিষ খাবেন—প্রমাণে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন: শিবির সভাপতি দুর্নীতির পুরনো চক্র ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে: মামুনুল হক জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন: নাহিদ ইসলাম সমাবেশে শিশির মনিরকে স্বর্ণের দাঁড়িপাল্লা উপহার নির্বাচনের আগের দিন জানানো হবে প্রধান উপদেষ্টার ভোটদানের স্থান-সময় বিএনপিতে যোগ দেওয়া আলোচিত যুবলীগ নেতা অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ডাকা বিক্ষোভে হাজির পাটওয়ারীই

তারেক রহমানের ওপর অমানবিক নির্যাতনের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন সাবেক সেনাপ্রধান

বাংলা ভিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 19

২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে তুলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। গুম ও হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে তিনি এ তথ্য জানান।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে সাক্ষ্য দেন তিনি। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ডিজিএফআই কার্যত মুখ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করত। সে সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সাবেক মন্ত্রীকে তুলে এনে ডিজিএফআইয়ের সেলে রাখা হতো এবং জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন চালানো হতো। তিনি জানান, তারেক রহমানকেও এভাবে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

সাবেক সেনাপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, বেসামরিক ব্যক্তিদের তুলে এনে সেলে আটকে রাখার প্রবণতা একসময় অভ্যাসে পরিণত হয়। এতে করে আইন ও মানবিকতার সীমারেখা ভেঙে পড়ে এবং যে কাউকে ধরে এনে ইচ্ছামতো আচরণ করার মানসিকতা তৈরি হয়।

জবানবন্দিতে তিনি সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর প্রসঙ্গও তোলেন। ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ২০০৩ সালে র‌্যাব গঠনের আগের ওই অভিযানে বহু হত্যাকাণ্ড ঘটে। সরকারি হিসাবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ১২ জন হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাবে নিহতের সংখ্যা ছিল আরও বেশি। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়, যা কার্যত ‘লাইসেন্স টু কিল’-এ পরিণত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিন সাক্ষ্যগ্রহণের আগে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর শাইখ মাহদীসহ অন্যরা। আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী নাজনীন নাহার ও মুনসুরুল হক চৌধুরী।

এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই আদেশে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য রোববার দিনটি নির্ধারণ করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া এদিন জবানবন্দি দেন।

শেয়ার করুন

তারেক রহমানের ওপর অমানবিক নির্যাতনের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন সাবেক সেনাপ্রধান

আপডেট: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে তুলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। গুম ও হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে তিনি এ তথ্য জানান।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে সাক্ষ্য দেন তিনি। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ডিজিএফআই কার্যত মুখ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করত। সে সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সাবেক মন্ত্রীকে তুলে এনে ডিজিএফআইয়ের সেলে রাখা হতো এবং জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন চালানো হতো। তিনি জানান, তারেক রহমানকেও এভাবে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

সাবেক সেনাপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, বেসামরিক ব্যক্তিদের তুলে এনে সেলে আটকে রাখার প্রবণতা একসময় অভ্যাসে পরিণত হয়। এতে করে আইন ও মানবিকতার সীমারেখা ভেঙে পড়ে এবং যে কাউকে ধরে এনে ইচ্ছামতো আচরণ করার মানসিকতা তৈরি হয়।

জবানবন্দিতে তিনি সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর প্রসঙ্গও তোলেন। ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ২০০৩ সালে র‌্যাব গঠনের আগের ওই অভিযানে বহু হত্যাকাণ্ড ঘটে। সরকারি হিসাবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ১২ জন হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাবে নিহতের সংখ্যা ছিল আরও বেশি। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়, যা কার্যত ‘লাইসেন্স টু কিল’-এ পরিণত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিন সাক্ষ্যগ্রহণের আগে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর শাইখ মাহদীসহ অন্যরা। আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী নাজনীন নাহার ও মুনসুরুল হক চৌধুরী।

এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই আদেশে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য রোববার দিনটি নির্ধারণ করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া এদিন জবানবন্দি দেন।