জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি, সিইসির কাছে আবেদন

- আপডেট: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 11
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান-এর প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন-এর কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীরা।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা আবেদনপত্র জমা দেন।
আবেদনকারীদের দাবি, ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। যদিও পরে সেটিকে ‘হ্যাকিং’-এর ফল বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তবে ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে এমন ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা মনে করছেন।
গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু সাংবাদিকদের বলেন, একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য শুধু অগ্রহণযোগ্য নয়, এটি সংবিধানস্বীকৃত নারী মর্যাদা ও সমতার নীতির সরাসরি লঙ্ঘন।
লিখিত আবেদনে বলা হয়, কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে করা মন্তব্যগুলো কুরুচিপূর্ণ, অবমাননাকর এবং গভীরভাবে নারীবিদ্বেষী। এসব বক্তব্য দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী নারীর সামাজিক অবদান ও শ্রমের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রকাশ করে।
আবেদনকারীরা আরও বলেন, কথিত হ্যাকিংয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা, নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রামাণ্য তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে হ্যাকিংয়ের দাবিটি সন্দেহজনক রয়ে গেছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয়, যা নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশের জন্য হুমকি তৈরি করে। রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা কারও কাছ থেকে এমন বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অনভিপ্রেত বলেও আবেদনকারীরা মত দেন।
সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা এবং আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি উপস্থিত ছিলেন।


























