বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ইংল্যান্ড। ফাইনালে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেলের কৌশল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক ফুটবলাররা।তাদের মতে, ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়াই ইংল্যান্ডের পরাজয়ের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় তুলে রক্ষণাত্মক ফুটবলার নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওয়েইন রুনি, অ্যালেন শিয়েরার ও জো হার্ট।তবে নিজের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছেন টুখেল। তার দাবি, সমস্যাটি দলের কৌশলগত কাঠামোর মধ্যে ছিল না।[BANGVIEWS-POST:1908]টুখেল বলেন, “অবশ্যই আমরা দ্বিতীয় গোলটি পেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার মনে হয়নি যে আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় নামালে কোনো লাভ হতো। আমরা আমাদের ৪-৪-২ ছকেই খেলেছি। কিন্তু ক্রমশ আরও বেশি রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছিলাম।”ম্যাচের পর ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ওয়েইন রুনি বলেন, লিড নেওয়ার পর আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় তুলে রক্ষণাত্মক ফুটবলার নামানোই ছিল টুখেলের সবচেয়ে বড় ভুল।রুনি বলেন, “আপনি যদি মাঠের একজন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় হন এবং দল ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যানেজারের পরিবর্তনগুলো দেখেন, তবে আপনার আত্মবিশ্বাস কমে যাবে। কতবার আর এভাবে পার পাওয়া যায়? তখন আপনি ভাবতে শুরু করবেন, ‘ওহ না, আমরা কি এতক্ষণ রক্ষণভাগে সময় পার করব? এভাবে আমরা ম্যাচটা শেষ করব কীভাবে?’”সাবেক গোলরক্ষক জো হার্টও মনে করেন, টুখেলের বদলগুলো খেলোয়াড়দের প্রতি তার অনাস্থার বার্তা দিয়েছে।তিনি বলেন, “থমাস টুখেলকে আমরা যতটা প্রশংসা করেছি। কিন্তু তিনি যেভাবে দ্রুত পরিবর্তনগুলো এনেছেন, তাতে আমার মনে হয় তিনি এটা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে নিজের দলের ওপর তার বিশ্বাস ছিল না। তিনি মনে করেননি যে তারা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আরও আক্রমণ চালিয়ে যেতে পারবে।”[BANGVIEWS-POST:1906]ইংল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার অ্যালেন শিয়েরারের মতে, রক্ষণাত্মক পরিকল্পনায় খুব দ্রুত চলে যাওয়াই ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দিয়েছে।শিয়েরার বলেন, “তিনি ম্যাচ জিততে খুব দ্রুত তার কৌশল পরিবর্তন করেছিলেন। আশা ছিল এভাবে রক্ষণ সামলে ম্যাচ বের করে নেবেন, কিন্তু তার সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলোই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।”ম্যাচে একসময় এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার চাপ সামলাতে পারেনি ইংল্যান্ড। পরাজয়ের পর তাই টুখেলের বদলি ও ম্যাচ পরিচালনার সিদ্ধান্তই এখন ইংলিশ ফুটবলে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।