বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে জাতীয় ঐক্যের অন্যতম শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশের পাহাড় ও সমতলে বসবাসকারী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে হবে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী এবং বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু এবং সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম উপস্থিত ছিলেন।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, ভাষা, ঐতিহ্য এবং জীবনধারার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। মানুষের জীবনযাপন ও সাংস্কৃতিক চর্চায় পার্থক্য থাকলেও বৃহত্তর জাতীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে সবাই একই সত্তার অংশ।
তিনি ‘ইউনিটি ইন ডাইভার্সিটি’ বা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের ধারণার ওপর গুরুত্ব দেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রীর মতে, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র পরিচয় ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানানোর মধ্য দিয়েই জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
এ জন্য পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সহমর্মিতার সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, উৎসব, সংস্কৃতি ও জীবনাচার রয়েছে উল্লেখ করে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, এসব ঐতিহ্যের সংরক্ষণ ও বিকাশ বাংলাদেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক পরিসরকে সমৃদ্ধ করবে।
তিনি জানান, পাহাড়ি ও সমতলের মানুষের জীবনধারার ভিন্নতা দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এ সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন নিতাই রায় চৌধুরী।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল চেতনায় দেশের সব জনগোষ্ঠীর অভিন্ন জাতীয় সত্তা ও পারস্পরিক সম্প্রীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অতীতের সংগ্রাম ও অর্জনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী।
মতবিনিময় সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে বিভেদ ও দূরত্ব ভুলে সহযোগিতার ভিত্তিতে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
তাঁর মতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সহমর্মিতা বাড়ানো গেলে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, দেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং তাঁদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
বিশেষ করে স্বতন্ত্র উৎসব, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশে নেওয়া উদ্যোগগুলো আরও কার্যকর করার বিষয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানান তিনি।
একই সঙ্গে এসব কার্যক্রমের পরিসর সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী।
মতবিনিময় সভায় পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
মন্তব্যসমূহ