ঢাকা    রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বড় বাজেটেও দর্শক টানতে ব্যর্থ টম ক্রুজের ‘ডিগার’

বড় বাজেটেও দর্শক টানতে ব্যর্থ টম ক্রুজের ‘ডিগার’
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

হলিউডের অন্যতম সফল তারকা টম ক্রুজের নতুন সিনেমা ‘ডিগার’ বক্স অফিসে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। অস্কারজয়ী পরিচালক আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতুর নির্মিত ছবিটি নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা থাকলেও মুক্তির পর দর্শকদের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে বিপুল বাজেটের এই সিনেমা থেকে প্রযোজনা সংস্থার বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে ছবিটির সম্ভাব্য লোকসান বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে লোকসানের চূড়ান্ত পরিমাণ এখনো নিশ্চিত নয়।

বক্স অফিসের তথ্য সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান বক্স অফিস মোজো অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ‘ডিগার’-এর আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। এর মধ্যে উত্তর আমেরিকায় মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে সিনেমাটি আয় করেছে মাত্র ৮০ লাখ ডলার। টম ক্রুজের মতো প্রতিষ্ঠিত তারকার নতুন সিনেমার জন্য এমন উদ্বোধনী আয় বাণিজ্যিকভাবে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ছবিটির বাজেট নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। মূল প্রতিবেদনে নির্মাণব্যয় ১৫ থেকে ১৮ কোটি ডলার এবং প্রচারণায় আরও প্রায় ১০ কোটি ডলার খরচের কথা বলা হয়েছে। সেই হিসাবে মোট ব্যয় ২৫ থেকে ২৮ কোটি ডলার। তবে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদনে নির্মাণব্যয় প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার উল্লেখ করা হয়েছে।

বড় অঙ্কের বিনিয়োগের বিপরীতে প্রেক্ষাগৃহ থেকে প্রত্যাশিত আয় না আসায় ‘ডিগার’ টম ক্রুজের ক্যারিয়ারে অন্যতম বড় বাণিজ্যিক ব্যর্থতা হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ছবিটির ব্যবসায়িক বিপর্যয়ের পেছনে প্রচারণার কৌশলকেও একটি কারণ হিসেবে দেখছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, সিনেমাটি ঠিক কোন ধরনের গল্প নিয়ে নির্মিত, তা দর্শকদের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে সমস্যা হয়েছে। বিশেষ করে ছবির ট্রেলার ও প্রচারণায় অ্যাকশনধর্মী বিনোদন এবং রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক গল্পের মধ্যে পার্থক্য পরিষ্কার ছিল না।

‘মিশন: ইমপসিবল’ ও ‘টপ গান’-এর মতো সিনেমায় টম ক্রুজকে দুর্দান্ত অ্যাকশন দৃশ্যে দেখতে অভ্যস্ত দর্শকেরা। কিন্তু ‘ডিগার’-এ সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

সিনেমায় তাঁর চরিত্রের নাম ডিগার রকওয়েল। একজন খামখেয়ালি ও প্রভাবশালী তেল ব্যবসায়ীর চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে কৃত্রিম প্রসাধনের মাধ্যমে নিজের চেহারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছেন ক্রুজ। ছবিটির গল্পে তাঁর চরিত্রের সঙ্গে একটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের যোগসূত্র রয়েছে।

চিরচেনা অ্যাকশননির্ভর গল্পের বদলে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও গাঢ় হাস্যরসকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে সিনেমাটিতে। নতুন ধরনের চরিত্রে ক্রুজের অভিনয় নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও তা বড় পরিসরে দর্শক টানতে যথেষ্ট হয়নি।

দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে ভিন্নতা। সিনেমাস্কোরে ছবিটি পেয়েছে ‘সি প্লাস’ গ্রেড। অন্যদিকে মূল প্রতিবেদনে আইএমডিবিতে এর রেটিং ৭ দশমিক ৫ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই রেটিং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।

চলচ্চিত্র ব্যবসার বিশ্লেষণে প্রথম সপ্তাহান্তের আয়কে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, উদ্বোধনী সপ্তাহে দর্শকদের আগ্রহ পরবর্তী সপ্তাহগুলোর ব্যবসায় প্রভাব ফেলতে পারে। ‘ডিগার’-এর ক্ষেত্রে শুরু থেকেই টিকিট বিক্রি কম থাকায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা বেড়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, ‘ডিগার’ থেকে প্রযোজনা সংস্থার অন্তত ১৫ কোটি ডলার লোকসান হতে পারে।

তবে প্রেক্ষাগৃহের আয়ের বাইরে ওটিটি, স্যাটেলাইট এবং অন্যান্য স্বত্ব বিক্রির মাধ্যমে কিছু অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এসব খাতের আয় হিসাব করার পর সিনেমাটির প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও স্পষ্ট হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বক্স অফিসে সাফল্যের জন্য পরিচিত টম ক্রুজের এই সিনেমার ফলাফল আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, বড় তারকা ও বিপুল বাজেট থাকলেই কোনো ছবির বাণিজ্যিক সাফল্য নিশ্চিত হয় না।

ট্যাগ : হলিউড টম ক্রুজ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


বড় বাজেটেও দর্শক টানতে ব্যর্থ টম ক্রুজের ‘ডিগার’

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

হলিউডের অন্যতম সফল তারকা টম ক্রুজের নতুন সিনেমা ‘ডিগার’ বক্স অফিসে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। অস্কারজয়ী পরিচালক আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতুর নির্মিত ছবিটি নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা থাকলেও মুক্তির পর দর্শকদের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে বিপুল বাজেটের এই সিনেমা থেকে প্রযোজনা সংস্থার বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে ছবিটির সম্ভাব্য লোকসান বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে লোকসানের চূড়ান্ত পরিমাণ এখনো নিশ্চিত নয়।

বক্স অফিসের তথ্য সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান বক্স অফিস মোজো অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ‘ডিগার’-এর আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। এর মধ্যে উত্তর আমেরিকায় মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে সিনেমাটি আয় করেছে মাত্র ৮০ লাখ ডলার। টম ক্রুজের মতো প্রতিষ্ঠিত তারকার নতুন সিনেমার জন্য এমন উদ্বোধনী আয় বাণিজ্যিকভাবে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ছবিটির বাজেট নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। মূল প্রতিবেদনে নির্মাণব্যয় ১৫ থেকে ১৮ কোটি ডলার এবং প্রচারণায় আরও প্রায় ১০ কোটি ডলার খরচের কথা বলা হয়েছে। সেই হিসাবে মোট ব্যয় ২৫ থেকে ২৮ কোটি ডলার। তবে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদনে নির্মাণব্যয় প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার উল্লেখ করা হয়েছে।

বড় অঙ্কের বিনিয়োগের বিপরীতে প্রেক্ষাগৃহ থেকে প্রত্যাশিত আয় না আসায় ‘ডিগার’ টম ক্রুজের ক্যারিয়ারে অন্যতম বড় বাণিজ্যিক ব্যর্থতা হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ছবিটির ব্যবসায়িক বিপর্যয়ের পেছনে প্রচারণার কৌশলকেও একটি কারণ হিসেবে দেখছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, সিনেমাটি ঠিক কোন ধরনের গল্প নিয়ে নির্মিত, তা দর্শকদের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে সমস্যা হয়েছে। বিশেষ করে ছবির ট্রেলার ও প্রচারণায় অ্যাকশনধর্মী বিনোদন এবং রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক গল্পের মধ্যে পার্থক্য পরিষ্কার ছিল না।

‘মিশন: ইমপসিবল’ ও ‘টপ গান’-এর মতো সিনেমায় টম ক্রুজকে দুর্দান্ত অ্যাকশন দৃশ্যে দেখতে অভ্যস্ত দর্শকেরা। কিন্তু ‘ডিগার’-এ সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

সিনেমায় তাঁর চরিত্রের নাম ডিগার রকওয়েল। একজন খামখেয়ালি ও প্রভাবশালী তেল ব্যবসায়ীর চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে কৃত্রিম প্রসাধনের মাধ্যমে নিজের চেহারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছেন ক্রুজ। ছবিটির গল্পে তাঁর চরিত্রের সঙ্গে একটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের যোগসূত্র রয়েছে।

চিরচেনা অ্যাকশননির্ভর গল্পের বদলে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও গাঢ় হাস্যরসকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে সিনেমাটিতে। নতুন ধরনের চরিত্রে ক্রুজের অভিনয় নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও তা বড় পরিসরে দর্শক টানতে যথেষ্ট হয়নি।

দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে ভিন্নতা। সিনেমাস্কোরে ছবিটি পেয়েছে ‘সি প্লাস’ গ্রেড। অন্যদিকে মূল প্রতিবেদনে আইএমডিবিতে এর রেটিং ৭ দশমিক ৫ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই রেটিং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।

চলচ্চিত্র ব্যবসার বিশ্লেষণে প্রথম সপ্তাহান্তের আয়কে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, উদ্বোধনী সপ্তাহে দর্শকদের আগ্রহ পরবর্তী সপ্তাহগুলোর ব্যবসায় প্রভাব ফেলতে পারে। ‘ডিগার’-এর ক্ষেত্রে শুরু থেকেই টিকিট বিক্রি কম থাকায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা বেড়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, ‘ডিগার’ থেকে প্রযোজনা সংস্থার অন্তত ১৫ কোটি ডলার লোকসান হতে পারে।

তবে প্রেক্ষাগৃহের আয়ের বাইরে ওটিটি, স্যাটেলাইট এবং অন্যান্য স্বত্ব বিক্রির মাধ্যমে কিছু অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এসব খাতের আয় হিসাব করার পর সিনেমাটির প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও স্পষ্ট হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বক্স অফিসে সাফল্যের জন্য পরিচিত টম ক্রুজের এই সিনেমার ফলাফল আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, বড় তারকা ও বিপুল বাজেট থাকলেই কোনো ছবির বাণিজ্যিক সাফল্য নিশ্চিত হয় না।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ