ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা সম্প্রসারণের বড় উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। এর মাধ্যমে দেশটি কঠিন জ্বালানিচালিত আরও বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে, যা দীর্ঘ দূরত্বে আঘাত হানতে এবং অধিক ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেট ল্যাবসের এক বছরের বেশি সময়ের বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে মার্কিন গবেষকরা এমন তথ্য জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এফপিআরআই) গবেষক স্যাম লেয়ার ও মাইকেল ডুইটসম্যানের মূল্যায়ন অনুযায়ী, রিয়াদ থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত আল-দাওয়াদিমি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কমপ্লেক্সে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি ভবন বিদ্যমান ভবনের চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ বড়, যেখানে কঠিন জ্বালানি ঢালাইয়ের বড় গর্ত থাকার স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে। দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণের ঝুঁকি কমাতে চারদিকে বিশেষ সুরক্ষাপ্রাচীর এবং সরঞ্জাম সংরক্ষণে আলাদা অবকাঠামোও গড়ে তোলা হচ্ছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তরল জ্বালানির তুলনায় কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র দীর্ঘ সময় সংরক্ষণযোগ্য এবং খুব দ্রুত উৎক্ষেপণ করা যায়। লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস) ও সিএনএ-এর বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই কমপ্লেক্সে ব্যবহৃত নকশা ও কাঠামোর সঙ্গে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র কারখানার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। ওয়াশিংটন দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র সরবরাহে বিধিনিষেধ রাখায় রিয়াদ মূলত চীনা প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছে। ১৯৮৭ সালে চীনের কাছ থেকে ডিএফ-৩ ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের পর এবার দেশটি ডিএফ-১৫ ও আরও আধুনিক ডিএফ-২১ মানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পথে হাঁটছে বলে ধারণা গবেষকদের।
বিশ্লেষকদের অভিমত, এ ধরনের ভারী ও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লে সৌদি আরবের জন্য ইরান ও ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধাদের সামরিক হুমকি মোকাবিলা সহজ হবে। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ঝুঁকি এড়িয়ে যুদ্ধবিমান ছাড়াই সুদূর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করবে রিয়াদ। তবে এই সামরিক পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়া এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক আলোচনা জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা করছেন কূটনীতিকরা।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ