ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণ, পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং চলতি বছরে ৪০ লাখ কৃষকের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় নদীটি ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে দেশের পানিসংকট দূর করার পাশাপাশি পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের চেষ্টা করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, “পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে তাদের সাথে আমরা কথা বলব। দরকার হলে বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যতদূর আমাদেরকে যেতে হয় আমরা চেষ্টা করব।”

তিনি আরও বলেন, পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের কাজ সরকার শুরু করবে এবং শেষও করবে।

কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, ৪০ লাখ মানুষকে সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা

কৃষকদের আর্থিক চাপ কমাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় চার হাজার আখচাষিকে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, যাতে আগামী মৌসুমে তাঁদের কষ্ট কিছুটা কমে। তাঁর ভাষ্য, বিএনপি বিশ্বাস করে কৃষক বাঁচলে দেশের কৃষিও বাঁচবে।

তিনি জানান, বিএনপি সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো। সে অনুযায়ী, সরকার গঠনের সাত দিনের মধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এতে দেশের ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা কৃষক কার্ড চালুর কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান তারেক রহমান। ক্ষুদ্র, মাঝারি, প্রান্তিক, ভূমিহীন ও বড় কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ শেষ হলে ধাপে ধাপে কার্ড বিতরণ করা হবে। চলতি বছর দেশের ৪০ লাখ ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নারী-পুরুষ কৃষকের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষক বছরে দুই বা তিনটি ফসল উৎপাদন করলেও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে অন্তত একটি ফসলের জন্য যতটা সম্ভব সার, বীজ ও কীটনাশক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার। এ ছাড়া কার্ড ব্যবহার করে ফসলের বীমা করা এবং ব্যাংকঋণ গ্রহণের সুযোগও থাকবে।

পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন

দেশজুড়ে খাল খনন ও নদী সংস্কার কর্মসূচি চালুর কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গত আট মাসে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তারেক রহমানের মতে, খাল খনন ও নদী সংস্কারের ফলে কৃষকেরা সেচের পানির সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি রাজশাহী অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায়ও উদ্যোগটি সহায়ক হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বা রিচার্জ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা বাড়বে

স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্তমান ১ হাজার ৩০০ শয্যা বাড়িয়ে ২ হাজার ৫০০ করা হবে।

এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এর ফলে গ্রামের মানুষকে ছোটখাটো অসুস্থতার জন্য দূরের জেলা সদর হাসপাতালে যেতে হওয়া কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্থিতিশীলতা ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব

জনসভায় ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, কোনো দোকানের সামনে বিশৃঙ্খলা হলে সেদিন ব্যবসা ভালো হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। একইভাবে দেশে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশে স্থিতিশীলতা ফেরানো, নিরাপত্তা বাড়ানো, বন্ধ মিল-কারখানা চালু করা, কৃষকদের স্বাবলম্বী করা এবং শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়িয়ে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে বেকারত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যেও কাজ চলছে।

তবে তাঁর অভিযোগ, একটি বিশেষ দল কয়েকটি দলকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এসব উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করে বন্ধ কলকারখানা চালুর মাধ্যমে বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তা ব্যারাজ পদ্মা ব্যারাজ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণ, পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং চলতি বছরে ৪০ লাখ কৃষকের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় নদীটি ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে দেশের পানিসংকট দূর করার পাশাপাশি পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের চেষ্টা করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, “পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে তাদের সাথে আমরা কথা বলব। দরকার হলে বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যতদূর আমাদেরকে যেতে হয় আমরা চেষ্টা করব।”

তিনি আরও বলেন, পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের কাজ সরকার শুরু করবে এবং শেষও করবে।

কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, ৪০ লাখ মানুষকে সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা

কৃষকদের আর্থিক চাপ কমাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় চার হাজার আখচাষিকে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, যাতে আগামী মৌসুমে তাঁদের কষ্ট কিছুটা কমে। তাঁর ভাষ্য, বিএনপি বিশ্বাস করে কৃষক বাঁচলে দেশের কৃষিও বাঁচবে।

তিনি জানান, বিএনপি সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো। সে অনুযায়ী, সরকার গঠনের সাত দিনের মধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এতে দেশের ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা কৃষক কার্ড চালুর কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান তারেক রহমান। ক্ষুদ্র, মাঝারি, প্রান্তিক, ভূমিহীন ও বড় কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ শেষ হলে ধাপে ধাপে কার্ড বিতরণ করা হবে। চলতি বছর দেশের ৪০ লাখ ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নারী-পুরুষ কৃষকের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষক বছরে দুই বা তিনটি ফসল উৎপাদন করলেও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে অন্তত একটি ফসলের জন্য যতটা সম্ভব সার, বীজ ও কীটনাশক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার। এ ছাড়া কার্ড ব্যবহার করে ফসলের বীমা করা এবং ব্যাংকঋণ গ্রহণের সুযোগও থাকবে।

পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন

দেশজুড়ে খাল খনন ও নদী সংস্কার কর্মসূচি চালুর কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গত আট মাসে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তারেক রহমানের মতে, খাল খনন ও নদী সংস্কারের ফলে কৃষকেরা সেচের পানির সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি রাজশাহী অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায়ও উদ্যোগটি সহায়ক হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বা রিচার্জ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা বাড়বে

স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্তমান ১ হাজার ৩০০ শয্যা বাড়িয়ে ২ হাজার ৫০০ করা হবে।

এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এর ফলে গ্রামের মানুষকে ছোটখাটো অসুস্থতার জন্য দূরের জেলা সদর হাসপাতালে যেতে হওয়া কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্থিতিশীলতা ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব

জনসভায় ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, কোনো দোকানের সামনে বিশৃঙ্খলা হলে সেদিন ব্যবসা ভালো হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। একইভাবে দেশে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশে স্থিতিশীলতা ফেরানো, নিরাপত্তা বাড়ানো, বন্ধ মিল-কারখানা চালু করা, কৃষকদের স্বাবলম্বী করা এবং শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়িয়ে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে বেকারত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যেও কাজ চলছে।

তবে তাঁর অভিযোগ, একটি বিশেষ দল কয়েকটি দলকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এসব উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করে বন্ধ কলকারখানা চালুর মাধ্যমে বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ