ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প উদ্বোধনের প্রত্যাশা সংসদীয় কমিটির
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণে আগামী ২৫ অক্টোবর পাবনার সুজানগর সরেজমিনে পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি।বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের পাশাপাশি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি এবং দেশের বিভিন্ন নদী সংরক্ষণ ও তীররক্ষা প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।কমিটির আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় গঙ্গা চুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি। দেশের সামগ্রিক পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এ চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন সংশ্লিষ্টরা।বৈঠকে জানানো হয়, বিদ্যমান গঙ্গা চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে, নাকি নতুন করে নবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এ-সংক্রান্ত প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।অন্যদিকে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অগ্রগতি সরাসরি পর্যবেক্ষণের জন্য ২৫ অক্টোবর পাবনার সুজানগরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সংসদীয় কমিটি আশা করছে, মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পরিদর্শনের পর প্রকল্পের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি হবে। প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পটির উদ্বোধন সম্ভব হতে পারে।বৈঠকের শুরুতে স্থায়ী কমিটির প্রথম সভার কার্যবিবরণী সংশোধন সাপেক্ষে অনুমোদন করা হয়।পরে পূর্ববর্তী বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামালপুর জেলার ব্রহ্মপুত্র ও জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।একই সঙ্গে জামালপুরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীর বামতীর, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ এবং আলাই নদীর তীর প্রতিরক্ষামূলক কাজের বর্তমান অবস্থাও পর্যালোচনায় আসে।এ ছাড়া রাজশাহী ও নাটোর জেলার বারনই নদী পুনঃখনন, নদীর পানি দূষণমুক্তকরণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদসংক্রান্ত প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা উন্নয়নের লক্ষ্যে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদীর তীরবর্তী পোল্ডার পুনর্বাসন প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়।এ প্রকল্পের আওতায় ৬৭/এ, ৬৭, ৬৭/বি এবং ৬৮ নম্বর পোল্ডারের পুনর্বাসন কার্যক্রমের দ্বিতীয় সংশোধিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের সর্বশেষ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন কমিটির সদস্যরা।বৈঠকে অংশ নেন পানি সম্পদমন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটির সদস্য মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু, মাজহারুল ইসলাম, ফরিদুল কবীর তালুকদার, মো. ইজ্জত উল্লাহ, অলি উল্লাহ এবং মশিউর রহমান খান।এ ছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বোর্ডের প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।