ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে এ নির্দেশ দেন বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

এর আগে রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ঘটনা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ইশরাক হোসেন। তিনি দাবি করেন, আত্মরক্ষার স্বার্থেই তিনি অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। একই সঙ্গে এ ঘটনা নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে অপতথ্য ও বিকৃত সংবাদ প্রকাশের অভিযোগও করেন তিনি।

রোববার দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন বলেন, মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। এ সময় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা থেকে তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।

তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে নিরাপত্তাঝুঁকি এবং মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে ছাদ থেকে গুলিবর্ষণের আশঙ্কা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয় বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যেই তা প্রদর্শন করা হয়েছিল।

গণমাধ্যমের সংবাদ প্রকাশের সমালোচনা করে ইশরাক হোসেন বলেন, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ কয়েকটি গণমাধ্যম ঘটনাটির খণ্ডিত তথ্য ও ছবি প্রকাশ করেছে। এতে অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ছয়জনকে আটকের বিষয়টি যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর বক্তব্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

ইশরাক হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করার পর পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো হয়। এ সময় চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। সেখান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদকসেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

এ ঘটনায় ছয়জন মাদক কারবারিকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছেন তিনি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এসব এলাকা মাদক কারবারিদের অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তার দাবি, গত জুনে মাদকসংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেন। জনবল সংকট দূর করা এবং মাদকের আস্তানাসংলগ্ন এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় আধাসরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিলেও তা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

ইশরাক হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি শনিবার ওই এলাকায় যান।

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা তার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। একটি ঘটনাকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন থামানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, জনস্বার্থে মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তবে ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ট্যাগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাক হোসেন মন্ত্রিসভা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে এ নির্দেশ দেন বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

এর আগে রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ঘটনা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ইশরাক হোসেন। তিনি দাবি করেন, আত্মরক্ষার স্বার্থেই তিনি অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। একই সঙ্গে এ ঘটনা নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে অপতথ্য ও বিকৃত সংবাদ প্রকাশের অভিযোগও করেন তিনি।

রোববার দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন বলেন, মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। এ সময় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা থেকে তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।

তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে নিরাপত্তাঝুঁকি এবং মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে ছাদ থেকে গুলিবর্ষণের আশঙ্কা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয় বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যেই তা প্রদর্শন করা হয়েছিল।

গণমাধ্যমের সংবাদ প্রকাশের সমালোচনা করে ইশরাক হোসেন বলেন, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ কয়েকটি গণমাধ্যম ঘটনাটির খণ্ডিত তথ্য ও ছবি প্রকাশ করেছে। এতে অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ছয়জনকে আটকের বিষয়টি যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর বক্তব্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

ইশরাক হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করার পর পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো হয়। এ সময় চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। সেখান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদকসেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

এ ঘটনায় ছয়জন মাদক কারবারিকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছেন তিনি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এসব এলাকা মাদক কারবারিদের অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তার দাবি, গত জুনে মাদকসংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেন। জনবল সংকট দূর করা এবং মাদকের আস্তানাসংলগ্ন এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় আধাসরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিলেও তা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

ইশরাক হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি শনিবার ওই এলাকায় যান।

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা তার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। একটি ঘটনাকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন থামানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, জনস্বার্থে মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তবে ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ