রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে কুমিল্লা ও নোয়াখালীতে সরবরাহের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। অভিযানে নয়টি চোরাই মোটরসাইকেল, তালা ভাঙার দুটি বিশেষ চাবি এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশা উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাশেদুল ইসলাম ওরফে রফিক ওরফে রাসেল (৩০), মো. আমির ফয়সাল ওরফে রাব্বি (৩০), ফয়সাল (২৫), সৌরভ (২২), জাহাঙ্গীর আলম পাপ্পু (২৯) ও মোজাম্মেল হক মাসুম (২২)।
ডিবির দাবি, চক্রটির সদস্যরা বিশেষভাবে তৈরি লোহার চাবি ব্যবহার করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মোটরসাইকেলের লক ভেঙে ফেলতেন। এরপর চুরি করা মোটরসাইকেল রাজধানীর বাইরে অন্য সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম জানান, গত ২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডে বাইতুর রহমান মসজিদের সামনে একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়।
মোটরসাইকেলটির মালিক সেটি লক করে আসরের নামাজ পড়তে মসজিদে প্রবেশ করেছিলেন। এই সুযোগে চোরচক্রের সদস্যরা বিশেষ চাবি দিয়ে লক খুলে মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ডিবির নজরে আসে। এরপর ডিবি-লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় সবুজবাগ থানার নন্দীপাড়া ও মাদারটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাশেদুল ইসলাম ওরফে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি চোরাই মোটরসাইকেল ও লক ভাঙার দুটি বিশেষ চাবি উদ্ধার করা হয়।
পরে রাসেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানার সাদ্দাম মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে মো. আমির ফয়সাল ওরফে রাব্বিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। এ সময় আরও একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তী অভিযানে কুমিল্লার লাকসাম থানা এলাকা থেকে চারটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং ফয়সাল ও সৌরভকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একইভাবে নোয়াখালীর চাটখিল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ জাহাঙ্গীর আলম পাপ্পু ও মোজাম্মেল হক মাসুমকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল ও রাব্বি রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেল চুরির কথা স্বীকার করেছেন। চুরি করা মোটরসাইকেলগুলো কুমিল্লার লাকসামে ফয়সাল ও সৌরভ এবং নোয়াখালীর চাটখিলে পাপ্পু ও মাসুমের কাছে সরবরাহ করা হতো বলে জানিয়েছে ডিবি।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, রাসেলের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরির ১৫টি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে রাব্বির বিরুদ্ধে চুরির মামলা রয়েছে সাতটি।
এ ছাড়া রাসেলের বিরুদ্ধে একটি জিআর সাজা পরোয়ানা এবং রাব্বির বিরুদ্ধে দুটি জিআর পরোয়ানা রয়েছে বলে পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ছয়জনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
মন্তব্যসমূহ