অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি স্থাপন বন্ধ এবং ইতোমধ্যে স্থাপিত বসতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ পুরোপুরি খুলে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে বেইজিং।
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির সম্মেলনের ফাঁকে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠক করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। বৈঠকের পর শুক্রবার প্রকাশিত চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এসব অবস্থান তুলে ধরা হয়।
ওয়াং ই বলেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নকে চীন ‘এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার’ হিসেবে বিবেচনা করে। তাঁর বক্তব্য, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সঠিক পথ হলো দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান।
পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি স্থাপনের বিষয়ে চীনের অবস্থানও স্পষ্ট করেন ওয়াং ই। তিনি ইসরাইলকে সেখানে জোরপূর্বক বসতি স্থাপনের কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং ইতোমধ্যে স্থাপিত বসতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
বৈঠকে গাজার পরিস্থিতিও গুরুত্ব পায়। গাজায় প্রবেশের সব মানবিক সহায়তার পথ পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ওপর জোর দেন ওয়াং ই। তাঁর বক্তব্য, প্রায় ২০ লাখ বেসামরিক মানুষকে মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে রাখা যায় না।
ইসরাইলের সঙ্গে বৈঠক হলেও চীনের অবস্থান শুধু ফিলিস্তিন প্রশ্নে সীমাবদ্ধ ছিল না। ওয়াং ই বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও সমঝোতা চীনের আঞ্চলিক নীতির অন্যতম ভিত্তি। সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আবারও সংলাপের পথে ফেরার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, হারজগ বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং ইসরাইলের অবস্থান তুলে ধরেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ইসরাইল শান্তি চায় বলে উল্লেখ করলেও নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শক্ত অবস্থানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি নিয়ে চীনের এই অবস্থান নতুন নয়। তবে ইসরাইলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসতি বন্ধ ও প্রত্যাহারের আহ্বান জানানোয় বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
মন্তব্যসমূহ