ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

পানামায় ফের ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূ'মিকম্প

পানামায় ফের ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূ'মিকম্প
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ভয়াবহ ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের কয়েক দিনের মধ্যেই ফের শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে মধ্য আমেরিকার দেশ পানামা। সোমবার, ১২ অক্টোবর স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ৬ মাত্রার এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র বা ইএমএসসি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬। এর গভীরতা নিয়ে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৩৫ কিলোমিটার বলা হলেও পরবর্তী ভূকম্পন-তথ্যে গভীরতার হিসাব পরিবর্তিত হয়েছে। 

নতুন এই ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে মাত্র কয়েক দিন আগে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত দেশটিতে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। 

এর আগে শুক্রবার, ৯ অক্টোবর পানামায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই ভূমিকম্পে দেশটির মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন প্রদেশে বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

ভূমিকম্পটির পর পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে পানামা সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ওই ভূমিকম্পে অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ৯০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দুর্গম এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তখনও চলছিল। 

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে লস সান্তোস, কোকলে, ভেরাগুয়াস ও এরেরা প্রদেশ। বেশ কিছু স্থানে সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। 

৭ দশমিক ৭ মাত্রার সেই ভূমিকম্পের পর একের পর এক আফটারশকও রেকর্ড করা হচ্ছিল। রোববার পর্যন্ত পানামায় ২০০টির বেশি পরাঘাত বা আফটারশক রেকর্ড হওয়ার কথা জানিয়েছিল রয়টার্স। নতুন করে ৬ মাত্রার এই ভূমিকম্প সেই ধারাবাহিক ভূকম্পন পরিস্থিতিকেই সামনে এনেছে। 

বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছিল, আফটারশকের সংখ্যা বাড়লেও সময়ের সঙ্গে সেগুলোর মাত্রা কমছিল এবং দুই কম্পনের মধ্যবর্তী ব্যবধানও বাড়ছিল। তবে নতুন শক্তিশালী কম্পন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আবারও বাড়িয়েছে। 

পানামার জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

তবে নতুন ৬ মাত্রার ভূমিকম্পটি আগের ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের সরাসরি আফটারশক কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ভূমিকম্পের অবস্থান, গভীরতা ও ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করেই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : ভূমিকম্প পানামা ৬ মাত্রার ভূমিকম্প

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


পানামায় ফের ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূ'মিকম্প

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভয়াবহ ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের কয়েক দিনের মধ্যেই ফের শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে মধ্য আমেরিকার দেশ পানামা। সোমবার, ১২ অক্টোবর স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ৬ মাত্রার এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র বা ইএমএসসি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬। এর গভীরতা নিয়ে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৩৫ কিলোমিটার বলা হলেও পরবর্তী ভূকম্পন-তথ্যে গভীরতার হিসাব পরিবর্তিত হয়েছে। 

নতুন এই ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে মাত্র কয়েক দিন আগে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত দেশটিতে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। 

এর আগে শুক্রবার, ৯ অক্টোবর পানামায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই ভূমিকম্পে দেশটির মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন প্রদেশে বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

ভূমিকম্পটির পর পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে পানামা সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ওই ভূমিকম্পে অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ৯০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দুর্গম এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তখনও চলছিল। 

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে লস সান্তোস, কোকলে, ভেরাগুয়াস ও এরেরা প্রদেশ। বেশ কিছু স্থানে সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। 

৭ দশমিক ৭ মাত্রার সেই ভূমিকম্পের পর একের পর এক আফটারশকও রেকর্ড করা হচ্ছিল। রোববার পর্যন্ত পানামায় ২০০টির বেশি পরাঘাত বা আফটারশক রেকর্ড হওয়ার কথা জানিয়েছিল রয়টার্স। নতুন করে ৬ মাত্রার এই ভূমিকম্প সেই ধারাবাহিক ভূকম্পন পরিস্থিতিকেই সামনে এনেছে। 

বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছিল, আফটারশকের সংখ্যা বাড়লেও সময়ের সঙ্গে সেগুলোর মাত্রা কমছিল এবং দুই কম্পনের মধ্যবর্তী ব্যবধানও বাড়ছিল। তবে নতুন শক্তিশালী কম্পন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আবারও বাড়িয়েছে। 

পানামার জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

তবে নতুন ৬ মাত্রার ভূমিকম্পটি আগের ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের সরাসরি আফটারশক কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ভূমিকম্পের অবস্থান, গভীরতা ও ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করেই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ