ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

পানামায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, ছয় প্রদেশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়

পানামায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, ছয় প্রদেশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন এলাকায় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে ছয়টি প্রদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ। নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। একের পর এক পরাঘাতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় ও খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন বাসিন্দারা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে পানামার দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭ দশমিক ৭ বলে জানিয়েছে। এর উৎপত্তি ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৭ দশমিক ৮ মাইল গভীরে। ভূমিকম্পের পর এক ডজনের বেশি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। এতে হতাহতের আশঙ্কা থাকলেও হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

ভূমিকম্পের প্রভাবে পানামার বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নাতুরগির তথ্য অনুযায়ী, দেশের ছয়টি প্রদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র টোকুমেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখা হয়। রাজধানী পানামা সিটিতে সড়কগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিভিন্ন অফিস থেকে কর্মীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দেওয়া হয়। বন্ধ রাখা হয় শহরের মেট্রো রেল পরিষেবাও।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আগেভাগে ছুটি ঘোষণা করায় ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নেমে আসতে দেখা যায়। একই সঙ্গে দেশজুড়ে ক্লাস স্থগিত করা হয়।

ইউএসজিএসের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে পানামার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ থেকে ১০ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। তবে এটি প্রাথমিক অনুমান; প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে আরও মূল্যায়ন প্রয়োজন।

ভূমিকম্পে দক্ষিণ পানামার হেরেরা প্রদেশের বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রদেশটির ৭৪ বছর বয়সী বাসিন্দা রিকার্ডো ব্রাউন জানিয়েছেন, লাস মিনাস এলাকায় একাধিক বাড়িতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ভয়ে আছি। এখানে আমরা দুজন বয়স্ক মানুষ ছাড়া আর কেউ নেই। বাড়িতে ফাটল ধরেছে। ভয় হচ্ছে, এটি আমাদের ওপর ভেঙে পড়তে পারে।’

ভূমিকম্পের পর রাজধানী পানামা সিটির বিভিন্ন ভবন থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের এই শহরে অনেক বাসিন্দাকে রাস্তায় ও পার্কে অবস্থান করতে দেখা যায়।

টেলিভিশনে প্রচারিত দৃশ্যে দেখা গেছে, পরপর কম্পন অনুভূত হওয়ায় মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে জড়ো হয়েছেন। আতঙ্কের মধ্যে কয়েকজন বয়স্ক ব্যক্তিকে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়।

পানামার ভূবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক নেস্টর লুকের মতে, আজুয়েরো-সোনা ফল্ট সিস্টেমের সক্রিয়তার সঙ্গে এই ভূমিকম্পের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ওই চ্যুতি ব্যবস্থায় চাপ জমা হচ্ছিল। সেই চাপ থেকে বিপুল শক্তি নির্গত হওয়ার ফলে ভূমিকম্পটি সৃষ্টি হয়।

নেস্টর লুক বলেন, ‘ভূমিকম্পের কম্পন পুরো ভূখণ্ডজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণেই দেশের সর্বত্র এটি অনুভূত হয়েছে।’

তিনি জানান, রাজধানী পানামা সিটিতে প্রায় ৪০ সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য এলাকায় কম্পনের স্থায়িত্ব আরও বেশি হতে পারে।

রাজধানীর একটি পুরোনো মার্কিন সামরিক আমলের ভবনের ষষ্ঠ তলায় অবস্থান করছিলেন সাবিনা রিওস। ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পটি খুব শক্তিশালী ছিল এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হয়েছিল। কয়েক বছরের মধ্যে এত দীর্ঘ কম্পন আমি অনুভব করিনি।’

প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের কাছে হেরেরা প্রদেশের তুলনামূলক কম জনবসতিপূর্ণ লা পিতালোজা এলাকার কাছাকাছি ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল।

উৎপত্তিস্থল ও রাজধানী পানামা সিটির মাঝামাঝি অবস্থিত পেনোনোমে শহরে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিওতে একটি গির্জা ও আশপাশের কয়েকটি ভবনে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। কিছু স্থাপনার অংশবিশেষ ধসে পড়তেও দেখা যায়।

পানামার বেসামরিক সুরক্ষা সংস্থার প্রধান ওমর স্মিথ সংবাদমাধ্যম টেলিমেত্রো রিপোর্টাকে জানিয়েছেন, হেরেরা প্রদেশের রাজধানী চিত্রে এবং উপকূলীয় লস সান্তোস প্রদেশ থেকেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

প্রতিবেশী দেশ কোস্টারিকার রাজধানী সান হোসেতেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে রয়টার্সের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর সুনামির আশঙ্কা কেটে গেছে। বর্তমানে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের সব বিভাগকে সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো। একই সঙ্গে জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার এবং বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা উচিত নয়।’

আগামী সোমবার পানামায় দেশব্যাপী ভূমিকম্প মোকাবিলায় জরুরি স্থানান্তর মহড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা যাচাই করা এই মহড়ার উদ্দেশ্য।

শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি, অবকাঠামোর নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নির্ধারণ এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সূত্র: রয়টার্স।

ট্যাগ : ভূমিকম্প পানামা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


পানামায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, ছয় প্রদেশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন এলাকায় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে ছয়টি প্রদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ। নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। একের পর এক পরাঘাতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় ও খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন বাসিন্দারা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে পানামার দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭ দশমিক ৭ বলে জানিয়েছে। এর উৎপত্তি ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৭ দশমিক ৮ মাইল গভীরে। ভূমিকম্পের পর এক ডজনের বেশি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। এতে হতাহতের আশঙ্কা থাকলেও হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

ভূমিকম্পের প্রভাবে পানামার বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নাতুরগির তথ্য অনুযায়ী, দেশের ছয়টি প্রদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র টোকুমেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখা হয়। রাজধানী পানামা সিটিতে সড়কগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিভিন্ন অফিস থেকে কর্মীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দেওয়া হয়। বন্ধ রাখা হয় শহরের মেট্রো রেল পরিষেবাও।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আগেভাগে ছুটি ঘোষণা করায় ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নেমে আসতে দেখা যায়। একই সঙ্গে দেশজুড়ে ক্লাস স্থগিত করা হয়।

ইউএসজিএসের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে পানামার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ থেকে ১০ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। তবে এটি প্রাথমিক অনুমান; প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে আরও মূল্যায়ন প্রয়োজন।

ভূমিকম্পে দক্ষিণ পানামার হেরেরা প্রদেশের বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রদেশটির ৭৪ বছর বয়সী বাসিন্দা রিকার্ডো ব্রাউন জানিয়েছেন, লাস মিনাস এলাকায় একাধিক বাড়িতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ভয়ে আছি। এখানে আমরা দুজন বয়স্ক মানুষ ছাড়া আর কেউ নেই। বাড়িতে ফাটল ধরেছে। ভয় হচ্ছে, এটি আমাদের ওপর ভেঙে পড়তে পারে।’

ভূমিকম্পের পর রাজধানী পানামা সিটির বিভিন্ন ভবন থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের এই শহরে অনেক বাসিন্দাকে রাস্তায় ও পার্কে অবস্থান করতে দেখা যায়।

টেলিভিশনে প্রচারিত দৃশ্যে দেখা গেছে, পরপর কম্পন অনুভূত হওয়ায় মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে জড়ো হয়েছেন। আতঙ্কের মধ্যে কয়েকজন বয়স্ক ব্যক্তিকে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়।

পানামার ভূবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক নেস্টর লুকের মতে, আজুয়েরো-সোনা ফল্ট সিস্টেমের সক্রিয়তার সঙ্গে এই ভূমিকম্পের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ওই চ্যুতি ব্যবস্থায় চাপ জমা হচ্ছিল। সেই চাপ থেকে বিপুল শক্তি নির্গত হওয়ার ফলে ভূমিকম্পটি সৃষ্টি হয়।

নেস্টর লুক বলেন, ‘ভূমিকম্পের কম্পন পুরো ভূখণ্ডজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণেই দেশের সর্বত্র এটি অনুভূত হয়েছে।’

তিনি জানান, রাজধানী পানামা সিটিতে প্রায় ৪০ সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য এলাকায় কম্পনের স্থায়িত্ব আরও বেশি হতে পারে।

রাজধানীর একটি পুরোনো মার্কিন সামরিক আমলের ভবনের ষষ্ঠ তলায় অবস্থান করছিলেন সাবিনা রিওস। ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পটি খুব শক্তিশালী ছিল এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হয়েছিল। কয়েক বছরের মধ্যে এত দীর্ঘ কম্পন আমি অনুভব করিনি।’

প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের কাছে হেরেরা প্রদেশের তুলনামূলক কম জনবসতিপূর্ণ লা পিতালোজা এলাকার কাছাকাছি ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল।

উৎপত্তিস্থল ও রাজধানী পানামা সিটির মাঝামাঝি অবস্থিত পেনোনোমে শহরে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিওতে একটি গির্জা ও আশপাশের কয়েকটি ভবনে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। কিছু স্থাপনার অংশবিশেষ ধসে পড়তেও দেখা যায়।

পানামার বেসামরিক সুরক্ষা সংস্থার প্রধান ওমর স্মিথ সংবাদমাধ্যম টেলিমেত্রো রিপোর্টাকে জানিয়েছেন, হেরেরা প্রদেশের রাজধানী চিত্রে এবং উপকূলীয় লস সান্তোস প্রদেশ থেকেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

প্রতিবেশী দেশ কোস্টারিকার রাজধানী সান হোসেতেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে রয়টার্সের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর সুনামির আশঙ্কা কেটে গেছে। বর্তমানে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের সব বিভাগকে সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো। একই সঙ্গে জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার এবং বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা উচিত নয়।’

আগামী সোমবার পানামায় দেশব্যাপী ভূমিকম্প মোকাবিলায় জরুরি স্থানান্তর মহড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা যাচাই করা এই মহড়ার উদ্দেশ্য।

শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি, অবকাঠামোর নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নির্ধারণ এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সূত্র: রয়টার্স।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ