স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগপত্র পাননি মিশন আচার্য। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর এবার তার নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন।
মিশন আচার্য ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাসিন্দা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫’-এ তিনি চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় তাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের নজরে আসে।
রোববার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন জানান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে দুই দিনের সফর শেষে মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। উদ্দেশ্য ছিল তার নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন বলে জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রীর কাছে দেওয়া রাশেদ খাঁনের চিঠিতেও মিশনের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও স্থায়ী বসতভিটা না থাকার কারণে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার এই চাকরিপ্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া তথ্যের বরাতে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জন্মের পর থেকেই মিশন আচার্য ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় বসবাস করছেন। বর্তমানে সেখানেই একটি ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি।
রাশেদ খাঁন জানান, ছোটবেলা থেকেই পিতৃহীন মিশন। তার মা কষ্ট করে তাকে পড়াশোনা করিয়েছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন।
মিশন আচার্য এর আগে জানিয়েছিলেন, সহকারী শিক্ষক পদে নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে তিনি ১৭তম স্থান অর্জন করেন। মোট ১৮২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হলেও নিয়োগপত্র দেওয়া হয় ১৮০ জনকে। বাকি দুজনের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় এবং অন্যজন মিশন হওয়ায় তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি বলে তিনি জানান।
মিশনের দাবি, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে যোগাযোগ করার পর তাকে জানানো হয়েছিল, তার নামে কোনো স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি। এ কারণেই নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।
নিজের স্থায়ী কোনো বসতভিটা নেই জানিয়ে মিশন বলেছিলেন, তার বাবা বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ায় বাবার ঠিকানাও ব্যবহার করতে পারেননি। এরপর থেকে মায়ের সঙ্গে ঝিনাইদহের কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তার দাবি, ওই এলাকাতেই তার জন্ম এবং জন্মের পর থেকে সেখানেই বসবাস করছেন।
রাশেদ খাঁনের চিঠিতে মিশন আচার্যের পরিস্থিতি মানবিকভাবে বিবেচনা করে বিধি অনুযায়ী তাকে নিয়োগপত্র দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ায় দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটতে যাচ্ছে মিশন আচার্যের। এখন তার নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার অপেক্ষা।
মন্তব্যসমূহ