ঢাকা    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় নিউইয়র্কে বিক্ষোভ, গ্রেফতার ১০৩

নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় নিউইয়র্কে বিক্ষোভ, গ্রেফতার ১০৩
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় নিউইয়র্কে তার বিরুদ্ধে একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে জবাবদিহির দাবি এবং ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবিতে এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভের ঘটনায় ১০৩ জনকে গ্রেফতার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জোসে নামের এক ব্যক্তি আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমি নিউইয়র্ক সিটিতে জন্মেছি ও বড় হয়েছি। এখানে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উপস্থিতি সম্পূর্ণ অসম্মানজনক। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী এবং আমরা তা মেনে নিই না।’

ইহুদি সংগঠন জিউইশ ভয়েস ফর পিস (জেভিপি) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের কাছে আয়োজিত একটি বিক্ষোভে ৪০০ জনের বেশি মানুষ অংশ নেন। এতে তারকা, সংগঠক ও রাজনীতিকরাও অংশ নেন। নেতানিয়াহুর জাতিসংঘের ভাষণের আগে বিক্ষোভকারীরা ফার্স্ট অ্যাভিনিউয়ের একটি অংশে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। জেভিপি ও এনওয়াইসি-ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা যৌথভাবে ওই বিক্ষোভের আয়োজন করে।

ফিলিস্তিনি ইয়ুথ মুভমেন্টের সদস্য ও জেভিপির বিক্ষোভের কর্মী নাস ইসা আল জাজিরাকে বলেন, ‘এই সপ্তাহে আমরা দেখছি, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে নিজেদের বিশ্বদর্শন প্রচারের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছেন। তাদের সেই বিশ্বব্যবস্থা শক্তি প্রয়োগ ও দায়মুক্তির সঙ্গে যুদ্ধাপরাধের ওপর প্রতিষ্ঠিত।’

বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় নিউইয়র্কের ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরেন। এর এক দিন আগে এনওয়াইসি-ডিএসএ জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলন করে। সংগঠনটি বিমানবন্দর দিয়ে ইসরাইলে সামরিক ও বিস্ফোরক সরঞ্জাম পাঠানো অবিলম্বে বন্ধের পাশাপাশি আগে পাঠানো সামরিক সহায়তার বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা দাবি করে।

বৃহস্পতিবার পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সড়ক ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ আল জাজিরাকে জানায়, বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগে ১০৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আয়োজকদের দাবি, গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে নয়জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন। নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়েরও আটক হন।

এক বিবৃতিতে আভিলা শেভালিয়ের বলেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর স্থান হেগে, নিউইয়র্কের রাস্তায় নয়। আর অবশ্যই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার জায়গাও তার নয়।’

জেভিপির সংগঠক জেস ফ্র্যাঙ্কেল ক্যারেল বলেন, একজন ইহুদি নিউইয়র্কবাসী হিসেবে তিনি চান, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ইসরাইলের গাজা যুদ্ধের পরিবর্তে দেশের নিজস্ব জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যয় করা হোক।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না আমাদের করের টাকা শিশুদের ওপর বোমা হামলায় ব্যয় হোক। আমরা চাই এই অর্থ এখানকার স্কুলগুলোতে ব্যয় করা হোক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার অনেক সহযোদ্ধাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা এখানে থাকব। এই যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

এর কয়েক ঘণ্টা পর নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের বিরুদ্ধে পৃথক একটি বিক্ষোভে হাজারো মানুষ জাতিসংঘ সদর দপ্তরের দিকে মিছিল করেন। ফিলিস্তিনি ইয়ুথ মুভমেন্ট ও দ্য পিপলস ফোরাম ওই বিক্ষোভের আয়োজন করে।

ফিলিস্তিনি ইয়ুথ মুভমেন্টের সংগঠক তাহের দাহলেহ আল জাজিরাকে বলেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কেন এই শহরে মাত্র ১০ ঘণ্টা থাকতে চেয়েছিলেন, তা স্পষ্ট। এই শহর আন্তর্জাতিক আইনের পলাতক ব্যক্তি বা যুদ্ধাপরাধীদের জন্য কখনো নিরাপদ আশ্রয় হবে না।’

ট্যাগ : বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় নিউইয়র্কে বিক্ষোভ, গ্রেফতার ১০৩

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় নিউইয়র্কে তার বিরুদ্ধে একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে জবাবদিহির দাবি এবং ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবিতে এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভের ঘটনায় ১০৩ জনকে গ্রেফতার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জোসে নামের এক ব্যক্তি আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমি নিউইয়র্ক সিটিতে জন্মেছি ও বড় হয়েছি। এখানে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উপস্থিতি সম্পূর্ণ অসম্মানজনক। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী এবং আমরা তা মেনে নিই না।’

ইহুদি সংগঠন জিউইশ ভয়েস ফর পিস (জেভিপি) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের কাছে আয়োজিত একটি বিক্ষোভে ৪০০ জনের বেশি মানুষ অংশ নেন। এতে তারকা, সংগঠক ও রাজনীতিকরাও অংশ নেন। নেতানিয়াহুর জাতিসংঘের ভাষণের আগে বিক্ষোভকারীরা ফার্স্ট অ্যাভিনিউয়ের একটি অংশে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। জেভিপি ও এনওয়াইসি-ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা যৌথভাবে ওই বিক্ষোভের আয়োজন করে।

ফিলিস্তিনি ইয়ুথ মুভমেন্টের সদস্য ও জেভিপির বিক্ষোভের কর্মী নাস ইসা আল জাজিরাকে বলেন, ‘এই সপ্তাহে আমরা দেখছি, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে নিজেদের বিশ্বদর্শন প্রচারের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছেন। তাদের সেই বিশ্বব্যবস্থা শক্তি প্রয়োগ ও দায়মুক্তির সঙ্গে যুদ্ধাপরাধের ওপর প্রতিষ্ঠিত।’

বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় নিউইয়র্কের ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরেন। এর এক দিন আগে এনওয়াইসি-ডিএসএ জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলন করে। সংগঠনটি বিমানবন্দর দিয়ে ইসরাইলে সামরিক ও বিস্ফোরক সরঞ্জাম পাঠানো অবিলম্বে বন্ধের পাশাপাশি আগে পাঠানো সামরিক সহায়তার বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা দাবি করে।

বৃহস্পতিবার পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সড়ক ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ আল জাজিরাকে জানায়, বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগে ১০৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আয়োজকদের দাবি, গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে নয়জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন। নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়েরও আটক হন।

এক বিবৃতিতে আভিলা শেভালিয়ের বলেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর স্থান হেগে, নিউইয়র্কের রাস্তায় নয়। আর অবশ্যই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার জায়গাও তার নয়।’

জেভিপির সংগঠক জেস ফ্র্যাঙ্কেল ক্যারেল বলেন, একজন ইহুদি নিউইয়র্কবাসী হিসেবে তিনি চান, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ইসরাইলের গাজা যুদ্ধের পরিবর্তে দেশের নিজস্ব জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যয় করা হোক।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না আমাদের করের টাকা শিশুদের ওপর বোমা হামলায় ব্যয় হোক। আমরা চাই এই অর্থ এখানকার স্কুলগুলোতে ব্যয় করা হোক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার অনেক সহযোদ্ধাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা এখানে থাকব। এই যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

এর কয়েক ঘণ্টা পর নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের বিরুদ্ধে পৃথক একটি বিক্ষোভে হাজারো মানুষ জাতিসংঘ সদর দপ্তরের দিকে মিছিল করেন। ফিলিস্তিনি ইয়ুথ মুভমেন্ট ও দ্য পিপলস ফোরাম ওই বিক্ষোভের আয়োজন করে।

ফিলিস্তিনি ইয়ুথ মুভমেন্টের সংগঠক তাহের দাহলেহ আল জাজিরাকে বলেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কেন এই শহরে মাত্র ১০ ঘণ্টা থাকতে চেয়েছিলেন, তা স্পষ্ট। এই শহর আন্তর্জাতিক আইনের পলাতক ব্যক্তি বা যুদ্ধাপরাধীদের জন্য কখনো নিরাপদ আশ্রয় হবে না।’


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ