নানা প্রতিকূলতা ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত সমস্যার মধ্যেই জাপানের নাগোয়া ও আইচিতে শুরু হয়েছে ২০তম এশিয়ান গেমস। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বর্ণিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহাদেশের অন্যতম বড় এই ক্রীড়া আসরের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
এবারের আয়োজন শুরুর আগে থেকেই ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, ভারী বৃষ্টিপাত, পরিবহন জটিলতা, অ্যাথলেটদের বিমানবন্দরে আটকে পড়া এবং আবাসনসংকটসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে আয়োজকদের। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এশিয়ার ঐক্যের বার্তা তুলে ধরা হয়।
নাগোয়া ও আইচিতে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৩০ হাজার আসনের স্টেডিয়ামের গ্যালারির একটি বড় অংশ খালি ছিল। তুলনামূলক কম দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হলেও আয়োজনজুড়ে ছিল নানা বর্ণিল পরিবেশনা। অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চটি তৈরি করা হয় বিশাল হৃদয়ের আকৃতিতে।
জাপানের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞী স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রি।
মার্চপাস্টে জাপানের অ্যাথলেটরা মাঠে প্রবেশের সময় দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। চীনের দলও পায় উল্লেখযোগ্য করতালি। বাংলাদেশের জন্যও মার্চপাস্ট ছিল বিশেষ মুহূর্তের। লাল-সবুজের পতাকা বহন করেন শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকি ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা।
আগামী ২০ সেপ্টেম্বর পুরুষদের ব্যক্তিগত ট্রায়াথলনের মধ্য দিয়ে এবারের আসরের প্রথম স্বর্ণপদকের লড়াই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে প্রতিযোগিতা। এ সময়ে ৪০টির বেশি খেলায় অংশ নেবেন এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় অ্যাথলেটরা।
এবারের আসরে নাগোয়া ও আইচিতে সাতটি খেলায় প্রতিযোগীদের ২০২৮ সালের অলিম্পিকে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ থাকছে। প্রতিষ্ঠিত তারকাদের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের উদীয়মান ক্রীড়াবিদরাও।
তবে আয়োজনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে শুরু থেকেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে আয়োজকদের। ১১ হাজারের বেশি অ্যাথলেট এবং প্রায় ৬ হাজার কর্মকর্তার আবাসনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে তৈরি হয় বড় ধরনের চাপ। ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে এবার প্রচলিত গেমস ভিলেজ রাখা হয়নি। পরিবর্তে বিভিন্ন হোটেল, অস্থায়ী কক্ষ এবং ‘কোস্টা সেরেনা’ ক্রুজ জাহাজে অংশগ্রহণকারীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এর মধ্যে গত সপ্তাহে নাগোয়ায় রেকর্ড বৃষ্টিতে বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়। এর পাশাপাশি পূর্ব জাপানের দিকে একটি টাইফুন এগিয়ে আসায় আগামী কয়েক দিনে প্রতিযোগিতার সূচি ও ব্যবস্থাপনায় নতুন করে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিবহনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে কয়েকজন অ্যাথলেটকে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। কয়েকটি দল অস্থায়ী আবাসনের মান নিয়ে অভিযোগ করেছে। কোথাও কোথাও বিছানার দৈর্ঘ্য নিয়েও অসুবিধার কথা উঠে এসেছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আরেকটি বিতর্কের সৃষ্টি হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার পুরুষ হকি দলের ম্যাচের আগে ভুল করে উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।
এতসব সমস্যার পরও এবারের আসরে এশিয়ার ৪৫টি দেশ ও অঞ্চল থেকে ক্রীড়াবিদরা অংশ নিচ্ছেন। অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া (ওসিএ) বর্তমান সময়ে এশিয়ান গেমসের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে ওসিএ সভাপতি শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল-থানি বলেন, এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল বার্তা হলো এশিয়ার ঐক্য তুলে ধরা এবং বিভিন্ন সংঘাতের বিপরীতে এ অঞ্চলের সংহতি প্রকাশ করা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার কথা জানানো হলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন খালি দেখা যায়।