ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

‘উনি যে জেলায় যান, সে জেলায়ই কালেমা পড়ে বিয়ে করেন’

‘উনি যে জেলায় যান, সে জেলায়ই কালেমা পড়ে বিয়ে করেন’
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

‘উনি তো যে জেলায় যান, সে জেলায়ই কালেমা পড়ে বিয়ে করেন’—রাজশাহী নগরের চন্দ্রিমা থানার আলোচিত সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে এমন বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন আন্নি আক্তার নামের এক নারী, যিনি নিজেকে এই পুলিশ কর্মকর্তার ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেছেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নগরের নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাট থেকে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় সাবেক ওসি মাহবুব আলম ও অন্য এক নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ থানায় নেওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি সাবেক ওসির বিরুদ্ধে চন্দ্রিমা থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন এবং পুরো ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

নওগাঁর বাসিন্দা, নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা আন্নি আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, চলতি বছরের শুরুর দিকে মাহবুব আলম তাকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে মাহবুবের প্রতিটি কর্মস্থলেই এ ধরনের একাধিক সম্পর্ক ও গোপনে বিয়ের প্রবণতা রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে আন্নি জানতে পারেন যে, সাবেক ওসি মাহবুব আলম তার কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়ায় নেওয়া নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটে এক নারীকে নিয়ে অবস্থান করছেন।

পরদিন শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটায় আন্নি ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। উপায় না পেয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগানো দরজা খুলতে ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ডেকে আনা হয়। ফায়ার সার্ভিস দরজা ভেঙে সাবেক ওসি মাহবুব আলম ও ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

দরজা খোলার পর মাহবুব আলম ওই নারীকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করলেও গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে কোনো বৈধ কাবিননামা দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে, আন্নিকে চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন বলে মাহবুব দাবি করলেও আন্নি জানান যে তিনি এসংক্রান্ত কোনো আইনি কাগজ বা তালাকনামা পাননি। বর্তমানে চন্দ্রিমা থানার দুটি পৃথক কক্ষে সাবেক ওসি মাহবুব আলম ও ওই নারীকে আটকে রাখা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলম কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক অনুমতি বা ছুটি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করে রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন, যা স্পষ্টতই একটি বড় প্রশাসনিক অপরাধ। এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসির দায়িত্বে থাকাকালীন এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষের খাম নেওয়ার একটি গোপন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাঁকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‘উনি যে জেলায় যান, সে জেলায়ই কালেমা পড়ে বিয়ে করেন’

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

‘উনি তো যে জেলায় যান, সে জেলায়ই কালেমা পড়ে বিয়ে করেন’—রাজশাহী নগরের চন্দ্রিমা থানার আলোচিত সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে এমন বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন আন্নি আক্তার নামের এক নারী, যিনি নিজেকে এই পুলিশ কর্মকর্তার ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেছেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নগরের নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাট থেকে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় সাবেক ওসি মাহবুব আলম ও অন্য এক নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ থানায় নেওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি সাবেক ওসির বিরুদ্ধে চন্দ্রিমা থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন এবং পুরো ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

নওগাঁর বাসিন্দা, নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা আন্নি আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, চলতি বছরের শুরুর দিকে মাহবুব আলম তাকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে মাহবুবের প্রতিটি কর্মস্থলেই এ ধরনের একাধিক সম্পর্ক ও গোপনে বিয়ের প্রবণতা রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে আন্নি জানতে পারেন যে, সাবেক ওসি মাহবুব আলম তার কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়ায় নেওয়া নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটে এক নারীকে নিয়ে অবস্থান করছেন।

পরদিন শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটায় আন্নি ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। উপায় না পেয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগানো দরজা খুলতে ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ডেকে আনা হয়। ফায়ার সার্ভিস দরজা ভেঙে সাবেক ওসি মাহবুব আলম ও ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

দরজা খোলার পর মাহবুব আলম ওই নারীকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করলেও গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে কোনো বৈধ কাবিননামা দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে, আন্নিকে চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন বলে মাহবুব দাবি করলেও আন্নি জানান যে তিনি এসংক্রান্ত কোনো আইনি কাগজ বা তালাকনামা পাননি। বর্তমানে চন্দ্রিমা থানার দুটি পৃথক কক্ষে সাবেক ওসি মাহবুব আলম ও ওই নারীকে আটকে রাখা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলম কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক অনুমতি বা ছুটি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করে রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন, যা স্পষ্টতই একটি বড় প্রশাসনিক অপরাধ। এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসির দায়িত্বে থাকাকালীন এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষের খাম নেওয়ার একটি গোপন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাঁকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ