ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ ৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখ ছাড়িয়েছে: আইনমন্ত্রী

দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখ ছাড়িয়েছে: আইনমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

দেশের আদালতগুলোতে বর্তমানে ৪৬ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মামলাজট কমানোর পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) আয়োজিত জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিপুলসংখ্যক মামলা বিচারাধীন থাকায় মামলাজট নিরসনে বিচার বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা দরকার।

সভায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে ২০২৬ সালে প্রণীত নতুন আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে বিচারক, প্রসিকিউটর এবং বিচারিক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

‘মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে জাতীয় পরামর্শ সভায় বিচারক, প্রসিকিউটর এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা মতবিনিময় করেন।

চলতি বছরের এপ্রিলে প্রণীত এই আইনটি ২০১২ সালের মানব পাচারবিরোধী আইনকে প্রতিস্থাপন করেছে। নতুন আইনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে একই আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধের সংজ্ঞা, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, ভুক্তভোগী সুরক্ষা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পরামর্শ সভায় নতুন আইনের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এবং সেগুলো তদন্ত কর্মকর্তা, প্রসিকিউটর ও বিচারকদের কাজের সঙ্গে কীভাবে সম্পৃক্ত হবে, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়। মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান ও অনিয়মিত অভিবাসনের মধ্যে পার্থক্য নিয়েও মতামত দেন অংশগ্রহণকারীরা।

এ ছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের নতুন ধরন, ডিজিটাল ও আর্থিক প্রমাণ সংগ্রহ, প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন, তদন্ত ও মামলা পরিচালনা এবং ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় সেবায় পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়।

সভা থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সুপারিশ তৈরির কথা জানানো হয়। এগুলো হলো নতুন আইন বাস্তবায়নের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করা, বিচারক ও প্রসিকিউটরদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আন্তঃদেশীয় মামলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

নতুন আইন বাস্তবায়নে ব্যবহারিক নির্দেশনা, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং আইনের বিভিন্ন বিধানের ধারাবাহিক ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে বলেও সভায় মত দেন অংশগ্রহণকারীরা। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিশেষ করে ডিজিটাল, আর্থিক ও আন্তঃসীমান্ত প্রমাণনির্ভর মামলায় কার্যকর তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েসের সভাপতিত্বে সভায় ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান হোলগে এবং ইউএনওডিসি দক্ষিণ এশিয়ার প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা মাহদি হাসান বক্তব্য দেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ‘দক্ষিণ এশিয়ায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও মোকাবিলা (২০২৪–২০২৭)’ আঞ্চলিক উদ্যোগের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।

উদ্যোগটির মাধ্যমে বাংলাদেশে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মোকাবিলায় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে ইউএনওডিসি নীতিগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ, প্রমাণভিত্তিক কার্যক্রম ও আঞ্চলিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে।

সভা থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো নতুন আইন বাস্তবায়ন এবং বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

ট্যাগ : আইনমন্ত্রী বিচার বিভাগ

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখ ছাড়িয়েছে: আইনমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের আদালতগুলোতে বর্তমানে ৪৬ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মামলাজট কমানোর পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) আয়োজিত জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিপুলসংখ্যক মামলা বিচারাধীন থাকায় মামলাজট নিরসনে বিচার বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা দরকার।

সভায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে ২০২৬ সালে প্রণীত নতুন আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে বিচারক, প্রসিকিউটর এবং বিচারিক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

‘মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে জাতীয় পরামর্শ সভায় বিচারক, প্রসিকিউটর এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা মতবিনিময় করেন।

চলতি বছরের এপ্রিলে প্রণীত এই আইনটি ২০১২ সালের মানব পাচারবিরোধী আইনকে প্রতিস্থাপন করেছে। নতুন আইনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে একই আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধের সংজ্ঞা, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, ভুক্তভোগী সুরক্ষা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পরামর্শ সভায় নতুন আইনের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এবং সেগুলো তদন্ত কর্মকর্তা, প্রসিকিউটর ও বিচারকদের কাজের সঙ্গে কীভাবে সম্পৃক্ত হবে, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়। মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান ও অনিয়মিত অভিবাসনের মধ্যে পার্থক্য নিয়েও মতামত দেন অংশগ্রহণকারীরা।

এ ছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের নতুন ধরন, ডিজিটাল ও আর্থিক প্রমাণ সংগ্রহ, প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন, তদন্ত ও মামলা পরিচালনা এবং ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় সেবায় পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়।

সভা থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সুপারিশ তৈরির কথা জানানো হয়। এগুলো হলো নতুন আইন বাস্তবায়নের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করা, বিচারক ও প্রসিকিউটরদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আন্তঃদেশীয় মামলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

নতুন আইন বাস্তবায়নে ব্যবহারিক নির্দেশনা, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং আইনের বিভিন্ন বিধানের ধারাবাহিক ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে বলেও সভায় মত দেন অংশগ্রহণকারীরা। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিশেষ করে ডিজিটাল, আর্থিক ও আন্তঃসীমান্ত প্রমাণনির্ভর মামলায় কার্যকর তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েসের সভাপতিত্বে সভায় ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান হোলগে এবং ইউএনওডিসি দক্ষিণ এশিয়ার প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা মাহদি হাসান বক্তব্য দেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ‘দক্ষিণ এশিয়ায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও মোকাবিলা (২০২৪–২০২৭)’ আঞ্চলিক উদ্যোগের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।

উদ্যোগটির মাধ্যমে বাংলাদেশে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মোকাবিলায় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে ইউএনওডিসি নীতিগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ, প্রমাণভিত্তিক কার্যক্রম ও আঞ্চলিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে।

সভা থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো নতুন আইন বাস্তবায়ন এবং বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ