প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাবোধ, জীবনদক্ষতা ও বাস্তবজ্ঞান বাড়াতে নতুন কারিকুলামে বছরজুড়ে ১২টি জীবনঘনিষ্ঠ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রতি মাসে একটি করে নির্দিষ্ট থিমকে বিভিন্ন বিষয়ের পাঠের সঙ্গে সমন্বয় করার কথা ভাবা হচ্ছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার লা মেরিডিয়ানে অনুষ্ঠিত ‘সেফগার্ডিং লিডারশিপ সামিট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ পরিকল্পনার কথা জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। হেইলিবেরি ভালুকা ও ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেওয়া নয়। একজন শিক্ষার্থী যেন নিজের নিরাপত্তা বুঝতে পারে, দায়িত্বশীল আচরণ শেখে এবং বাস্তব জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার দক্ষতা অর্জন করে, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি জানান, প্রাথমিকের কারিকুলাম সংস্কারের কাজ চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বছরের প্রতিটি মাসে আলাদা একটি জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। সেই মাসে গণিত, ভাষা ও অন্যান্য বিষয়ের পাঠেও সংশ্লিষ্ট থিমের উদাহরণ, প্রশ্ন ও আলোচনা যুক্ত করা হবে।
উদাহরণ হিসেবে অগ্নিনিরাপত্তার কথা তুলে ধরেন ববি হাজ্জাজ। কোনো মাসে অগ্নিনিরাপত্তাকে মূল বিষয় হিসেবে নেওয়া হলে বিভিন্ন বিষয়ের পাঠে আগুন থেকে নিরাপদ থাকা, জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় এবং সংশ্লিষ্ট বাস্তব উদাহরণ অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
একইভাবে সড়ক নিরাপত্তা, পানিতে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার মতো বিষয়গুলোও পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ট্রাফিক পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকেও ব্যবহারিক শেখানোর কার্যক্রমে যুক্ত করা যেতে পারে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিশু বিদ্যালয়ে শুধু পাঠ গ্রহণ করবে না, একই সঙ্গে শারীরিক ও মানসিকভাবে নিরাপদ পরিবেশও পাবে।
দেশের সব ধরনের প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি অভিন্ন ন্যূনতম নিরাপত্তা ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করার জন্য নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে ন্যূনতম মানের চেয়ে উন্নত ব্যবস্থা রয়েছে, তাদের আরও ভালো করার সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা ও কার্যকর উদ্যোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের অন্যান্য বিদ্যালয়েও সেগুলো প্রয়োগের চেষ্টা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শুধু নিয়ন্ত্রক হিসেবে নয়, অংশীদার হিসেবেও কাজ করতে চায়। সরকারি নীতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় একটি সাধারণ মানদণ্ড তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।
‘সেফগার্ডিং লিডারশিপ সামিট ২০২৬’-এর মূল লক্ষ্য ছিল দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশু সুরক্ষা, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা। এতে নীতিনির্ধারক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক ও শিশু সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।