চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শুক্রবার বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হলে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় বিদেশ সফরের অংশ। মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি চীন সফরে যান। উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, সফরের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করা, ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি এগিয়ে নেওয়া এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ।
তিনি বলেন, সফরের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করা।
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন খাতে ১৫টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গুয়োয়িং। বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য হয়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিংয়েরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।