ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করতে গত সপ্তাহে জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা গোপন বৈঠক করেছেন। দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকের কথা অংশগ্রহণকারী দেশগুলো আগে থেকে প্রকাশ করেনি। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ছয় মাসের বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর এটিই এ ধরনের প্রথম বৈঠক।
বৈঠকে ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও মিশরের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেন্টকম পরে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, জার্মানিতে পূর্বনির্ধারিত সম্মেলনে আট দেশের শীর্ষ সামরিক নেতারা অংশ নেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
অ্যাডমিরাল কুপার বৈঠকে উপস্থিত সামরিক নেতাদের জানান, ইরানের হামলা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা নেই। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল ইয়াল জামির বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের সামরিক অভিযানের পরিস্থিতি বৈঠকে তুলে ধরেন।
২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তির পর ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়তে থাকে। পরে ইসরায়েলকে মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ডের পরিবর্তে সেন্টকমের অধীনে আনা হলে আঞ্চলিক আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সুযোগ আরও বাড়ে।
অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, চলমান সংঘাতে ইসরায়েল সংযুক্ত আরব আমিরাতকে আকাশ প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে আয়রন ডোম ব্যবস্থা মোতায়েন এবং গোয়েন্দা, নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ-সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক সহায়তাও রয়েছে।
এদিকে হুতিদের সাম্প্রতিক হামলা ও সৌদি আরবের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রিয়াদ ও তেল আবিবের মধ্যেও নিরাপত্তা সমন্বয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। একটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি সামরিক অভিযানে ইসরায়েল কীভাবে সহায়তা দিতে পারে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো সৌদিকেও কীভাবে গোয়েন্দা ও আইএসআর সহায়তা দেওয়া যায়, তা নিয়ে সেন্টকমের সহায়তায় দুই পক্ষ আলোচনা করছে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস