চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহার এবং হালকা প্রকৌশলসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন শিল্পখাতে জার্মানির বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির অর্থনৈতিক সম্পর্ককে শুধু দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না সরকার। পণ্যের বৈচিত্র্য, মূল্য সংযোজন, আন্তর্জাতিক মানোন্নয়ন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে যে সক্ষমতা দেখিয়েছে, একই ধরনের সাফল্য চামড়া, জাহাজ নির্মাণ ও হালকা প্রকৌশল খাতেও অর্জন করা সম্ভব। এজন্য আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
চামড়া শিল্প প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, এ খাতে বড় ধরনের রফতানি সম্ভাবনা থাকলেও পরিবেশগত মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পানির ব্যবহার কমানো, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণ করা গেলে এ শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়বে।
আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উৎপাদন করা সম্ভব হলে বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে জার্মান প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দেন শিল্পমন্ত্রী।
জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ পুনর্ব্যবহার খাত নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। শিল্পমন্ত্রী বলেন, এ খাত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দেশের ইস্পাত, নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোর বিকাশেও ভূমিকা রাখছে। তবে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মান মেনে এ খাতকে আরও উন্নত করতে হবে।
তিনি বলেন, নিরাপদ উৎপাদন, উন্নত প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে জার্মানির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহার খাতে সেই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কাজে লাগতে পারে।
বৈঠকে জার্মান রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের শিল্পখাতের অগ্রগতি ও সম্ভাবনার প্রশংসা করেন। তৈরি পোশাক খাতের সাফল্যকে তিনি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
চামড়া, জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ পুনর্ব্যবহারসহ সম্ভাবনাময় অন্যান্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে জার্মানির আগ্রহ রয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং টেকসই শিল্পায়নে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পখাতে যৌথ অংশীদারত্ব এবং উচ্চপর্যায়ের পারস্পরিক সফর বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।