ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে একটি ডিজিটাল নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি অটোরিকশায় কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুর এক নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অটোরিকশা চালকদের কর্মসংস্থান বজায় রেখেই ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নতুন নীতিমালা ও বিধিমালা কার্যকর করা হচ্ছে।
তিনি জানান, নতুন ব্যবস্থার আওতায় একটি নম্বরের অধীনে যাতে একাধিক অবৈধ অটোরিকশা চলতে না পারে, সে জন্য ডিজিটাল নিবন্ধন, কিউআর কোড এবং ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করা হবে।
সংসদে রেহানা আক্তার রানু বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করেছে। তবে এসব যানবাহনের কোনো নির্দিষ্ট নম্বর প্লেট না থাকায় এআই ক্যামেরার মাধ্যমে আইনভঙ্গ শনাক্ত হলেও ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হচ্ছে। তিনি অটোরিকশা বন্ধ না করে নিবন্ধন, চালকদের প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স এবং নির্দিষ্ট এলাকায় চলাচলের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজি বাইকসহ তিন চাকার বৈদ্যুতিক যান গ্রামীণ ও শহুরে পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানও জড়িত।
তবে এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি করছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চলাচল করছে। এসব যানবাহনের কারণে বিদ্যুতের অতিরিক্ত ব্যবহার, অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট এবং রাজস্ব ক্ষতির মতো সমস্যা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অটোরিকশায় ব্যবহৃত লেড-এসিড ব্যাটারি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এ কারণে নতুন ব্যবস্থায় পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধান সড়কে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ঢাকার বিভিন্ন সিগন্যালে এআই ক্যামেরা ব্যবহারে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। বর্তমানে আরও ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে, যা পর্যায়ক্রমে পুরো রাজধানীতে সম্প্রসারণ করা হবে।
রেহানা আক্তার রানুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অটোরিকশা খাতে শৃঙ্খলা আনতে প্রয়োজনীয় নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে চালকদের কর্মসংস্থান যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে অটোরিকশার নিবন্ধন, নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হবে। সরকার জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত এই ব্যবস্থা কার্যকর করবে।