ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার বিমান হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে চালানো এ হামলার মধ্য দিয়ে কিয়েভে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো রুশ হামলা হলো।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান হামলার তীব্রতা বেড়েছে। বিশেষ করে কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব হামলায় আবাসিক ভবন, গুদাম ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন ধরনের জেট ইঞ্জিনযুক্ত ড্রোন ব্যবহারের কারণে এগুলো শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলেও জানিয়েছে ইউক্রেন।
প্রায় প্রতিদিনই বিমান হামলার সতর্কতা জারি থাকায় কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালেও রাজধানীতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা জানান, রাতভর হামলায় রাশিয়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল আবাসিক এলাকা ও রেল অবকাঠামো।
তিনি ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিদেশে জব্দ থাকা রাশিয়ার সম্পদ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা কাজে ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সিবিহা বলেন, কূটনৈতিক আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ইউক্রেনকে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, কিয়েভ শহরের বিভিন্ন এলাকায় হামলায় ৮ জন নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থা ইউক্রজালিজনিতসিয়ার প্রধান ওলেকসান্দর পার্তসভস্কি জানান, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রেল ডিপোসহ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ছয়জন রেলকর্মী নিহত হয়েছেন।
রাজধানীর বাইরে বোরিসপিল এলাকায় আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে হামলায় চারজন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর তিমুর তকাচেঙ্কো।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, নিহতদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন। তিনি বলেন, হামলায় বিপুলসংখ্যক জেটচালিত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। দেশটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নতুন চালান পেয়েছে।
এদিকে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল ওদেসাতেও হামলা হয়েছে। ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য রপ্তানি পথ হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলের বন্দর ও অবকাঠামোতে হামলার কারণে রপ্তানি কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জেলেনস্কি জানান, হামলার কারণে ওই অঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন। মস্কোর যুদ্ধ সক্ষমতা দুর্বল করতে দেশটি বিশেষ করে তেল স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করছে।
রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ উস্ত-লুগা বন্দরে আগুন লাগে। সামারা অঞ্চলেও কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া।
রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
এদিকে এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ইউক্রেনের একটি হামলায় ব্যবহৃত ড্রোন সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী হান্নো পেভকুর বলেন, এ ধরনের ঘটনা ইউক্রেনকে আরও কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলা শান্তি আলোচনা বর্তমানে অচল অবস্থায় রয়েছে। ইউক্রেন রাশিয়ার দাবিকৃত ভূখণ্ড ছাড়তে রাজি না হওয়ায় আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ইউক্রেন সফরের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ