ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

গুমের ৬১ দিন ও ৯ বছরের নির্বাসনের স্মৃতি বলতে গিয়ে কাঁদলেন সালাহউদ্দিন

গুমের ৬১ দিন ও ৯ বছরের নির্বাসনের স্মৃতি বলতে গিয়ে কাঁদলেন সালাহউদ্দিন
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

২০১৫ সালে গুমের শিকার হওয়ার পর ৬১ দিনের বন্দিজীবন এবং ভারতে দীর্ঘ নয় বছরের নির্বাসনের দুঃসহ স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে কেঁদেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নিজের জীবনের সেই কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেন তিনি। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে বা তাদের সন্ধান পেতে চাই আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি বিদেশের মাটিতে পাগল অবস্থায় মারা যাব, আমার পরিবার হয়তো আমার কবরও দেখতে পারবে না, এমন ভয়ও পেয়েছিলাম।’

২০১৫ সালে উত্তরার একটি বাসা থেকে অপহরণের পর তাকে ৮ ফুট বাই ৪ ফুটের একটি অন্ধকার ও সংকীর্ণ কক্ষে ৬১ দিন আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি। সেখানে একটি পানির কল ও শৌচকার্যের জন্য সরু একটি ছিদ্র ছাড়া তেমন কোনো ব্যবস্থা ছিল না। মেঝেতে কম্বল ও বালিশ ছিল তার শোবার একমাত্র সম্বল।

তিনি জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হলেও বন্দিদশায় কোনো চিকিৎসা পাননি। অসুস্থ হয়ে পড়লে একপর্যায়ে চোখ বেঁধে তাকে অন্য জায়গায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পরে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় তাকে মাইক্রোবাস ও জিপে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ যাত্রার পর ভোরে একটি পাহাড়ি এলাকায় তাকে নামিয়ে দিয়ে অপহরণকারীরা চলে যায়। পরে একটি বিলবোর্ড দেখে তিনি বুঝতে পারেন, তিনি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে রয়েছেন।

স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এরপর তাকে প্রথমে হাসপাতালে এবং পরে মানসিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মানসিক রোগী হিসেবে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একপর্যায়ে হাসপাতাল থেকে স্ত্রীর ফোন পেয়ে তিনি বুঝতে পারেন, পরিবার তার বেঁচে থাকার খবর পেয়েছে। পরে সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘ইয়েস, আই অ্যাম সালাহউদ্দিন।’

ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর শিলংয়ের নিম্ন আদালত এবং ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিল আদালত তাকে খালাস দেন।

ভারতে অবস্থানকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দীর্ঘ নয় বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরেন তিনি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হওয়ায় ভারত থেকে আমি দেশে ফিরতে পেরেছি। যারা জুলাই যুদ্ধ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।’

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরার একটি এলাকা থেকে সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সে সময় বিএনপি এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।

ট্যাগ : সালাহউদ্দিন আহমদ গুম গুমের স্মৃতি মায়ের ডাক

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


গুমের ৬১ দিন ও ৯ বছরের নির্বাসনের স্মৃতি বলতে গিয়ে কাঁদলেন সালাহউদ্দিন

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

২০১৫ সালে গুমের শিকার হওয়ার পর ৬১ দিনের বন্দিজীবন এবং ভারতে দীর্ঘ নয় বছরের নির্বাসনের দুঃসহ স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে কেঁদেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নিজের জীবনের সেই কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেন তিনি। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে বা তাদের সন্ধান পেতে চাই আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি বিদেশের মাটিতে পাগল অবস্থায় মারা যাব, আমার পরিবার হয়তো আমার কবরও দেখতে পারবে না, এমন ভয়ও পেয়েছিলাম।’

২০১৫ সালে উত্তরার একটি বাসা থেকে অপহরণের পর তাকে ৮ ফুট বাই ৪ ফুটের একটি অন্ধকার ও সংকীর্ণ কক্ষে ৬১ দিন আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি। সেখানে একটি পানির কল ও শৌচকার্যের জন্য সরু একটি ছিদ্র ছাড়া তেমন কোনো ব্যবস্থা ছিল না। মেঝেতে কম্বল ও বালিশ ছিল তার শোবার একমাত্র সম্বল।

তিনি জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হলেও বন্দিদশায় কোনো চিকিৎসা পাননি। অসুস্থ হয়ে পড়লে একপর্যায়ে চোখ বেঁধে তাকে অন্য জায়গায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পরে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় তাকে মাইক্রোবাস ও জিপে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ যাত্রার পর ভোরে একটি পাহাড়ি এলাকায় তাকে নামিয়ে দিয়ে অপহরণকারীরা চলে যায়। পরে একটি বিলবোর্ড দেখে তিনি বুঝতে পারেন, তিনি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে রয়েছেন।

স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এরপর তাকে প্রথমে হাসপাতালে এবং পরে মানসিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মানসিক রোগী হিসেবে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একপর্যায়ে হাসপাতাল থেকে স্ত্রীর ফোন পেয়ে তিনি বুঝতে পারেন, পরিবার তার বেঁচে থাকার খবর পেয়েছে। পরে সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘ইয়েস, আই অ্যাম সালাহউদ্দিন।’

ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর শিলংয়ের নিম্ন আদালত এবং ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিল আদালত তাকে খালাস দেন।

ভারতে অবস্থানকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দীর্ঘ নয় বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরেন তিনি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হওয়ায় ভারত থেকে আমি দেশে ফিরতে পেরেছি। যারা জুলাই যুদ্ধ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।’

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরার একটি এলাকা থেকে সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সে সময় বিএনপি এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ