ঢাকা    শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

শুভেন্দুর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ মমতা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ দাবি

শুভেন্দুর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ মমতা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ দাবি
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যটির রাজনীতি। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তাঁকে বাড়ি থেকে বের হতে না দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন শুভেন্দু। এ ঘটনায় ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপও চেয়েছেন তিনি। 

সোমবার (২৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মমতা জানান, তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন না। বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানো পর্যন্ত রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আবারও রাজপথে নামার কথা বলেন তিনি। 

এর কিছুক্ষণ পর রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তর নবান্নে সংবাদ সম্মেলন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মমতাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তাঁর ফেসবুকেই থাকা উচিত, রাস্তায় নামার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে মমতা যাতে আর রাস্তায় নামতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা করার কথাও বলেন শুভেন্দু। বয়সের প্রসঙ্গ তুলে তাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। 

শুভেন্দুর এই বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান মমতা। তাঁর অভিযোগ, সরকারি দপ্তরে বসে একজন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের নেত্রীকে প্রকাশ্যে চলাফেরার স্বাধীনতা সীমিত করার হুমকি দিয়েছেন।

মমতা প্রশ্ন তোলেন, শুভেন্দুর বক্তব্যের অর্থ কী? তাঁকে কি ঘরবন্দি করা হবে, ভয় দেখানো হবে, নাকি রাজনৈতিকভাবে দমন করা হবে? একটি সাংবিধানিক গণতন্ত্রে কে কোথায় চলাফেরা করবেন, তা নির্ধারণের ক্ষমতা একজন মুখ্যমন্ত্রীকে কে দিয়েছেন বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি।  

ঘটনাটিকে ভারতীয় রাজনীতির জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে মমতা ভারতের রাষ্ট্রপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সংবিধান নাগরিকদের যে স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার দিয়েছে, একজন নির্বাচিত সরকারপ্রধানের বক্তব্য তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটি বিবেচনা করা প্রয়োজন। 

তবে শুভেন্দুর বক্তব্যকে সরাসরি ‘ঘরবন্দির নির্দেশ’ হিসেবে নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুমকি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে শুভেন্দুর মন্তব্য এবং তার জবাবে মমতার অভিযোগ দুটিই আলাদাভাবে উঠে এসেছে। 

এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী তৃণমূলের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হলো। বিশেষ করে সাবেক ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি বাকযুদ্ধ এখন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

সূত্র: দ্য উইক

ট্যাগ : পশ্চিমবঙ্গ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দু অধিকারী

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


শুভেন্দুর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ মমতা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যটির রাজনীতি। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তাঁকে বাড়ি থেকে বের হতে না দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন শুভেন্দু। এ ঘটনায় ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপও চেয়েছেন তিনি। 

সোমবার (২৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মমতা জানান, তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন না। বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানো পর্যন্ত রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আবারও রাজপথে নামার কথা বলেন তিনি। 

এর কিছুক্ষণ পর রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তর নবান্নে সংবাদ সম্মেলন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মমতাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তাঁর ফেসবুকেই থাকা উচিত, রাস্তায় নামার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে মমতা যাতে আর রাস্তায় নামতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা করার কথাও বলেন শুভেন্দু। বয়সের প্রসঙ্গ তুলে তাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। 

শুভেন্দুর এই বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান মমতা। তাঁর অভিযোগ, সরকারি দপ্তরে বসে একজন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের নেত্রীকে প্রকাশ্যে চলাফেরার স্বাধীনতা সীমিত করার হুমকি দিয়েছেন।

মমতা প্রশ্ন তোলেন, শুভেন্দুর বক্তব্যের অর্থ কী? তাঁকে কি ঘরবন্দি করা হবে, ভয় দেখানো হবে, নাকি রাজনৈতিকভাবে দমন করা হবে? একটি সাংবিধানিক গণতন্ত্রে কে কোথায় চলাফেরা করবেন, তা নির্ধারণের ক্ষমতা একজন মুখ্যমন্ত্রীকে কে দিয়েছেন বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি।  

ঘটনাটিকে ভারতীয় রাজনীতির জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে মমতা ভারতের রাষ্ট্রপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সংবিধান নাগরিকদের যে স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার দিয়েছে, একজন নির্বাচিত সরকারপ্রধানের বক্তব্য তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটি বিবেচনা করা প্রয়োজন। 

তবে শুভেন্দুর বক্তব্যকে সরাসরি ‘ঘরবন্দির নির্দেশ’ হিসেবে নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুমকি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে শুভেন্দুর মন্তব্য এবং তার জবাবে মমতার অভিযোগ দুটিই আলাদাভাবে উঠে এসেছে। 

এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী তৃণমূলের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হলো। বিশেষ করে সাবেক ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি বাকযুদ্ধ এখন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

সূত্র: দ্য উইক


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ