যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ১০টির বেশি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের যেকোনো সম্ভাব্য পদক্ষেপ মোকাবিলায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, পিয়ংইয়ং এলাকা থেকে কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব সাগরের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করা হয়। ঘটনার পরপরই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডাকা হয়।
সিউলের দাবি, উত্তর কোরিয়ার এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের গুরুতর লঙ্ঘন। পিয়ংইয়ংকে অবিলম্বে এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বানও জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সাগরে গিয়ে পড়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বেক বলেছেন, এগুলো উত্তর কোরিয়ার ৬০০ মিলিমিটার মাল্টিপল রকেট লঞ্চার ব্যবস্থা থেকে নিক্ষেপ করা হয়ে থাকতে পারে। পিয়ংইয়ং এর আগে এই অস্ত্রব্যবস্থাকে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম বলে দাবি করেছে।
ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের এক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিলেও ওয়াশিংটনের উত্তর কোরিয়াবিরোধী নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ট্রাম্প সম্প্রতি কিম জং উনের সঙ্গে আবারও কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, কিমের কাছ থেকে একটি বার্তাও পেয়েছেন। তবে কিম ইয়ো জং বলেছেন, দুই নেতার মধ্যে সাম্প্রতিক কোনো যোগাযোগের বিষয়ে তিনি অবগত নন।
সিউলের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজের অধ্যাপক ইয়াং মু-জিনের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে পিয়ংইয়ং একাধিক বার্তা দিতে চাইছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার বিরোধিতা, নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে বাইরের আলোচনার প্রতিবাদ এবং দেশের নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত উত্তর কোরিয়াই নেবে, এমন অবস্থান তুলে ধরা।
তার মতে, এই পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া নিজেদের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার কার্যকারিতাও যাচাই করে থাকতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে চীন। সিউল সফরকালে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দক্ষিণ কোরিয়াকে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের দ্বন্দ্বে কোনো একটি পক্ষ বেছে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্যসমূহ