প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো এক দিনের সফরে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার যাচ্ছেন তারেক রহমান। আগামী রোববার (৯ আগস্ট) তিনি দুই জেলার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত করা সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে কক্সবাজারের মহেশখালী দিয়ে সফর শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টার দিকে সেখানে পৌঁছে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।
পরে দুপুর ১২টার দিকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন এলাকায় যাবেন তিনি। সেখানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এ সময় ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ১০০টি গৃহহারা পরিবারের সদস্যদের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
এরপর দুপুর ১টার দিকে ফটিকছড়িতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
পরে হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফির কবর জিয়ারত করবেন তিনি।
হাটহাজারীতে সংক্ষিপ্ত বিরতির পর সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ১৫ জন প্রতিবন্ধীর প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।
সফরের শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান। রাত ৯টা ২০ মিনিটে তার ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ছাড়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে প্রশাসন ও স্থানীয় বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তাকে স্বাগত জানাতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রস্তুতি সভা এবং স্বাগত কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ফটিকছড়িতে অস্থায়ী হেলিপ্যাড থেকে নাজিরহাট নতুন ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে মানুষের সারি তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।