যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেই অধিকার সংকুচিত করেছে বলে অন্তত ৭৫টি মামলায় রায় দিয়েছেন দেশটির বিচারকেরা।
আদালতের নথি পর্যালোচনা করে রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে করা বিভিন্ন মামলায় বিচারকেরা প্রথম সংশোধনীর অধীনে সুরক্ষিত বাক্স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও প্রতিবাদের অধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছেন।
মামলাগুলোর মধ্যে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করা, সরকারের সমালোচক আইনজীবী ও আইনি প্রতিষ্ঠানকে শাস্তি দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণ, ফিলিস্তিনপন্থী বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং সরকারি কর্মীদের বক্তব্য সীমিত করার মতো বিষয় রয়েছে।
রয়টার্সের পর্যালোচনা অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের প্রেসিডেন্টদের নিয়োগ দেওয়া বিচারকেরাই এসব সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। কয়েকটি মামলায় ট্রাম্পের নিজের নিয়োগ দেওয়া বিচারকেরাও প্রশাসনের পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
চারটি বড় আইন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ পৃথকভাবে বাতিল করেন চার বিচারক। তাঁদের পর্যবেক্ষণ ছিল, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতিনিধিত্ব কিংবা প্রশাসনের অপছন্দের আইনি অবস্থানের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘন করেছে।
এ ছাড়া আদালত সরকারি অর্থায়ন বন্ধ করে গণমাধ্যমকে চাপে রাখা, পেন্টাগনে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে শাস্তি দেওয়ার কয়েকটি উদ্যোগও আটকে দিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রশাসনের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপগুলো জাতীয় নিরাপত্তা, অভিবাসন আইন, বৈষম্য প্রতিরোধ এবং নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের অংশ। অনেক রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও করেছে সরকার।
রয়টার্স জানিয়েছে, ৭৫টি সিদ্ধান্তের সব কটি চূড়ান্ত নয়। কয়েকটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা কিংবা নিম্ন আদালতের রায় হওয়ায় উচ্চ আদালতে সেগুলো পরিবর্তিত হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স