সরকার ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের উৎস খুঁজছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ঋণ ও আর্থিক দায় সামলাতে গিয়ে এবারের বাজেটকে পুরোপুরি নিখুঁত বলা যাচ্ছে না।
রোববার রাজধানীর গুলশানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেট সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বাজেটের বিভিন্ন দিক সরকার এখনো পর্যালোচনা করছে। বাজেট বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে কর-জিডিপি অনুপাত সন্তোষজনক নয় এবং বিশ্বব্যাপী বিদেশি ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ার বাস্তবতার মধ্যেই বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে।
তিনি জানান, আগের সরকারের সময়ের বিপুল আর্থিক দায় বর্তমান সরকারের জন্য চাপ তৈরি করেছে। শুধু বিদ্যুৎ খাতেই প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া বিল রয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে ব্যয়ও বেড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো নতুনভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কর বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা হবে। একই সঙ্গে কর প্রদানে জনগণের ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রপ্তানি খাতের সুবিধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বন্ড সুবিধা পাবে। আর বন্ড সুবিধা গ্রহণ না করলে কর-সংক্রান্ত বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় থাকবে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেটে মোট বরাদ্দের ২ শতাংশ শিক্ষা খাতে রাখা হয়েছে। যদিও দীর্ঘমেয়াদে এ খাতে বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। একইভাবে স্বাস্থ্য খাতেও বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫ শতাংশে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বিনিয়োগ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এই দুই খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।