রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একদিনে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। দুই দেশের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৯ জন এবং রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার একাধিক অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালায়। এসব হামলায় উদমুর্তিয়া, বেলগোরোদসহ কয়েকটি এলাকায় বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। রাশিয়ার সামারা অঞ্চলে দেশটির বৃহৎ অনলাইন বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিসের একটি গুদামেও হামলার পর আগুন ধরে যায়।
ইউক্রেন রাশিয়ার একটি তেল শোধনাগার এবং সারাতোভ অঞ্চলের একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে। কিয়েভ দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার জ্বালানি, সামরিক ও সরবরাহ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন অভিযান চালিয়ে আসছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক, জাপোরিঝঝিয়া, খেরসন ও খারকিভ অঞ্চলে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। হামলায় আবাসিক ভবন, যানবাহন ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে বেসামরিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো আক্রান্ত হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। মাত্র এক দিন আগেও কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হন।
অন্যদিকে ইউক্রেনের লক্ষ্য হচ্ছে রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদন, অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করা। কিয়েভের ধারণা, রাশিয়ার অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়ানো গেলে মস্কোকে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় ফেরানো সম্ভব হতে পারে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দুই পক্ষের হামলার পরিধি ক্রমেই বেড়েছে। প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে বর্তমানে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনই উভয় পক্ষের প্রধান আক্রমণাত্মক অস্ত্র হয়ে উঠেছে।
সূত্র : এএফপি