ঢাকা    সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ ১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ইতিবাচক পথে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ইতিবাচক পথে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ফলো করুন

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। দুই দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতিকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠক ও নৈশভোজ শেষে রাত পৌনে ৯টার দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

খলিলুর রহমান জানান, বৈঠকের আলোচনা ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

গত সপ্তাহে ম্যানিলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও সার্জিও গরের সঙ্গে নিজের সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক বর্তমানে আশাব্যঞ্জক অবস্থানে রয়েছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই আগামী দিনের সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে।

তিন দিনের সফরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছান সার্জিও গর। ভারতের মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবেও কাজ করছেন।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দুই পক্ষের বৈঠক শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টার আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কিন বিশেষ দূত একান্ত বৈঠকও করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অভিবাসনসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় স্থান পেয়েছে। তবে সময় সীমিত থাকায় কোনো একটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। দুই দেশের সম্পর্কের সামগ্রিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথ নিয়েই মূলত কথা হয়েছে।

বর্তমান সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে। এই সম্পর্ক শুধু একটি বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিভিন্ন পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে।

দেশের চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানি সহযোগিতার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তার একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র দিয়ে থাকে। তবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়টি এই বৈঠকে আলোচিত হয়নি।

চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে প্রযুক্তিকেন্দ্রিক দুটি ভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে ওঠার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যৎ সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হবে, যদিও এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের নীতিগত অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বৈঠকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়সংক্রান্ত জিসোমিয়া ও আকসা চুক্তি এবং বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার করিডোর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

সার্জিও গরও বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার তার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির পরিদর্শনের কথা রয়েছে। শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে মার্কিন বিশেষ দূতের।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ইতিবাচক পথে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। দুই দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতিকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠক ও নৈশভোজ শেষে রাত পৌনে ৯টার দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

খলিলুর রহমান জানান, বৈঠকের আলোচনা ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

গত সপ্তাহে ম্যানিলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও সার্জিও গরের সঙ্গে নিজের সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক বর্তমানে আশাব্যঞ্জক অবস্থানে রয়েছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই আগামী দিনের সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে।

তিন দিনের সফরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছান সার্জিও গর। ভারতের মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবেও কাজ করছেন।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দুই পক্ষের বৈঠক শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টার আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কিন বিশেষ দূত একান্ত বৈঠকও করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অভিবাসনসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় স্থান পেয়েছে। তবে সময় সীমিত থাকায় কোনো একটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। দুই দেশের সম্পর্কের সামগ্রিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথ নিয়েই মূলত কথা হয়েছে।

বর্তমান সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে। এই সম্পর্ক শুধু একটি বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিভিন্ন পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে।

দেশের চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানি সহযোগিতার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তার একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র দিয়ে থাকে। তবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়টি এই বৈঠকে আলোচিত হয়নি।

চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে প্রযুক্তিকেন্দ্রিক দুটি ভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে ওঠার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যৎ সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হবে, যদিও এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের নীতিগত অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বৈঠকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়সংক্রান্ত জিসোমিয়া ও আকসা চুক্তি এবং বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার করিডোর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

সার্জিও গরও বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার তার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির পরিদর্শনের কথা রয়েছে। শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে মার্কিন বিশেষ দূতের।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ