সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দৈনন্দিন উপস্থিতির তথ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো নিশ্চিত করতে বিভাগীয় কার্যালয়গুলোকে আবারও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণ না করায় এবং তথ্য পাঠাতে বিলম্ব হওয়ায় এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রকিব উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিটি দেশের সব বিভাগীয় উপপরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত ১৫ জুন থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। এই কার্যক্রমের আওতায় বিদ্যালয় থেকে শুরু করে ক্লাস্টার, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপস্থিতির তথ্য পাঠানোর সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ এলাকার বিদ্যালয়গুলোকে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে তথ্য পাঠাতে হবে। এরপর ক্লাস্টার, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে সকাল ১০টা ১৫ মিনিট, ১০টা ৪৫ মিনিট এবং বেলা ১১টা ১৫ মিনিটের মধ্যে তথ্য প্রেরণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য পৃথক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে বিদ্যালয় থেকে সকাল ৭টা ৫০ মিনিট এবং বিভাগীয় কার্যালয় থেকে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটের মধ্যে তথ্য পাঠানোর নির্দেশ রয়েছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিভাগীয় কার্যালয় থেকে প্রতিদিন বেলা ১১টা ১৫ মিনিটের মধ্যে উপস্থিতির তথ্য পাঠানোর নির্দেশনা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় মানা হচ্ছে না। এর ফলে শিক্ষকদের উপস্থিতি-সংক্রান্ত দৈনিক মনিটরিং প্রতিবেদন যথাসময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।
এ পরিস্থিতিতে বিভাগীয় কার্যালয়গুলোকে অধীনস্থ সব কার্যালয় থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপস্থিতির তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও সমন্বয় করে প্রতিটি কার্যদিবসে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো নিশ্চিত করার নির্দেশ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এ নির্দেশনার অনুলিপি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।