বিশ্ব ফুটবল আসর ঘিরে যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কলম্বিয়ান পপতারকা শাকিরা আবারও আলোচনায়, তখন তার এক পুরোনো বাংলাদেশ সফরও নতুন করে উঠে এসেছে আলোচনায়। প্রায় দুই দশক আগে দুর্যোগকবলিত বাংলাদেশ সফরে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন এই বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী।
২০০৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে শাকিরা বাংলাদেশে আসেন। ঘূর্ণিঝড় সিডরের ভয়াবহতায় ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিন দিনের ওই সফরে তিনি পটুয়াখালীর দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন।
সফরকালে ধ্বংসস্তূপে পরিণত গ্রাম, স্বজন হারানো পরিবার এবং বিশেষ করে শিশুদের কষ্টের গল্প শোনেন তিনি। এক পর্যায়ে মা-বাবা হারানো এক শিশুর গান শুনে আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কেঁদে ফেলেন শাকিরা। সেই মুহূর্ত তার স্মৃতিতে গভীরভাবে দাগ কেটে যায় বলে পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন তিনি।
শাকিরা বলেন, ধ্বংসস্তূপের মাঝেও শিশুদের হাসি, গান ও স্বপ্ন তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। ডাক্তার ও নার্স হওয়ার মতো স্বপ্নের কথা শুনে তিনি আশাবাদী হলেও মানুষের দুর্দশা দেখে গভীরভাবে মর্মাহত হন।
সফরের অংশ হিসেবে তিনি রাজশাহীতে ইউনিসেফের একটি প্রকল্পও পরিদর্শন করেন। সেখানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান এবং তাদের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখেন।
শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা শাকিরা ১৮ বছর বয়স থেকেই এ ধরনের সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। তার প্রতিষ্ঠিত ‘পিয়েস দেসকালসোস’ ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করছে।
সফর শেষে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, বাংলাদেশসহ দুর্যোগপ্রবণ দেশের শিশুদের পাশে আরও বেশি সহায়তা ও মনোযোগ দেওয়ার জন্য।
সেই সফর ছিল অনেকটাই প্রচারবিহীন ও ব্যক্তিগত ইচ্ছায় পরিচালিত। ইউনিসেফের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শাকিরা আলোচনার বাইরে থেকে বাস্তব পরিস্থিতি নিজ চোখে দেখতে চেয়েছিলেন।