যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলায় ইরানি নৌবাহিনীর সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা জানিয়েছে তেহরান।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ইরানের পবিত্র নগরী কোমে নিহত নৌসেনাদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশটির নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি এ কথা বলেন।
ইরানি নৌপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের যুদ্ধে নৌবাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঘটনার সব দিক পর্যালোচনা করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আইনি পথ অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তবে কোন আদালত বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের মামলা কিংবা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি শাহরাম ইরানি।
নিহত নৌসেনাদের পরিবারের ধৈর্য ও ত্যাগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সদস্যদের হারানোর বেদনা শুধু তাদের পরিবারের নয়, পুরো ইরানি নৌবাহিনীর। নিহতদের পরিবার নৌবাহিনীর বৃহৎ পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানি নৌপ্রধান বলেন, নিহত সদস্যদের আত্মত্যাগের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। সব ধরনের হুমকি ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দেশের নৌবাহিনী দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে বলে জানান তিনি।
চলতি বছরের মার্চে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস দেনা’য় মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় বহু নৌসেনা নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্র হামলার বিষয়টি স্বীকার করলেও এর বৈধতা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান বিপরীত।
ইরান হামলাটিকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে কয়েকজন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞের মতে, চলমান সশস্ত্র সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধজাহাজটি বৈধ সামরিক লক্ষ্য হতে পারে। হামলার বৈধতা নিয়ে এখনো কোনো আন্তর্জাতিক আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়নি।
সূত্র: প্রেস টিভি