প্রায় এক বছর দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করেছেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্ভিরিডেনকো। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অনুরোধে দেওয়া তাঁর পদত্যাগপত্র মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্ট গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের ফলে নিয়ম অনুযায়ী পুরো মন্ত্রিসভাও পদত্যাগী হিসেবে গণ্য হবে।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। তবে যুদ্ধকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আকস্মিক এই পরিবর্তনের বিস্তারিত কারণ তিনি প্রকাশ করেননি। সিদ্ধান্তটি নিয়ে পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্য উদ্বেগ ও অসন্তোষ জানিয়েছেন।
বিদায়ী বক্তব্যে ৪০ বছর বয়সী অর্থনীতিবিদ স্ভিরিডেনকো বলেন, দায়িত্বে থাকার প্রতিটি দিনই কঠিন সিদ্ধান্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। তাঁর ওপর আস্থা রাখার জন্য তিনি ইউক্রেনের জনগণ ও সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন স্ভিরিডেনকো। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বিনিয়োগ চুক্তি সম্পন্ন করতে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। ওয়াশিংটনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল বলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে দায়িত্বে থাকাকালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত কঠোর ব্যবস্থা নিতে না পারার অভিযোগে তিনি সমালোচিত হন। বিরোধী আইনপ্রণেতারা বিদায়ী সরকারের কার্যক্রম ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি নাফতোগাজের প্রধান সেরহি কোরেৎস্কির নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় জ্বালানিমন্ত্রী ডেনিস শমিহাল ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরোভের নামও রয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে এই সরকার পরিবর্তন ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এলো। নতুন সরকারের প্রধান দায়িত্ব হবে যুদ্ধকালীন অর্থনীতি সচল রাখা, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত এবং সম্ভাব্য রুশ হামলার আগে শীত মৌসুমের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা।
বিদায়ের আগে স্ভিরিডেনকো সতর্ক করে বলেন, আসন্ন শীতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস অবকাঠামো রক্ষা এবং জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হবে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ