ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

বিশিষ্ট রাজনৈতিক চিন্তাবিদ, লেখক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।

সোমবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বাংলা একাডেমি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের লাশ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। সেখানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পরে বেলা ১১টার দিকে তার লাশ রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুর ১২টার দিকে তার লাশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনসংলগ্ন অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে নেওয়া হয়। সেখানে বেলা ১টা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থা রাখা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পরে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

রোববার আকস্মিক হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

তার মৃত্যুতে দেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ ছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল এবং জাতীয় কবিতা পরিষদ পৃথক শোকবার্তায় এই শিক্ষাবিদ, গবেষক ও চিন্তাবিদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক স্ত্রী ফরিদা প্রধান, মেয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য শুচিতা শারমিন, পুত্রবধূ রাজিয়া রহমান, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার ছেলে জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটে উগ্রবাদীদের হামলায় নিহত হন।

ট্যাগ : বাংলা একাডেমি আবুল কাসেম ফজলুল হক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

বিশিষ্ট রাজনৈতিক চিন্তাবিদ, লেখক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।

সোমবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বাংলা একাডেমি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের লাশ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। সেখানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পরে বেলা ১১টার দিকে তার লাশ রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুর ১২টার দিকে তার লাশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনসংলগ্ন অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে নেওয়া হয়। সেখানে বেলা ১টা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থা রাখা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পরে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

রোববার আকস্মিক হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

তার মৃত্যুতে দেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ ছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল এবং জাতীয় কবিতা পরিষদ পৃথক শোকবার্তায় এই শিক্ষাবিদ, গবেষক ও চিন্তাবিদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক স্ত্রী ফরিদা প্রধান, মেয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য শুচিতা শারমিন, পুত্রবধূ রাজিয়া রহমান, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার ছেলে জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটে উগ্রবাদীদের হামলায় নিহত হন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ