নোয়াখালীর চাটখিলে পাঁচ বছরের শিশু আসমা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে মামলার একমাত্র আসামি শাহাদাত হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
সোমবার নোয়াখালীর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ চার বছরের বিচারিক কার্যক্রম শেষে মামলাটির রায় হলো।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এর আগে তিন দফা রায়ের তারিখ পরিবর্তন করা হয়। পরে ৬ জুলাই রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত আসমা আক্তার চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা মো. শাহজাহানের মেয়ে। দণ্ডপ্রাপ্ত শাহাদাত হোসেন একই গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে এবং সম্পর্কে আসমার চাচাতো ভাই।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় আসমা। নিখোঁজের নয় দিন পর আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে শাহাদাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত চলাকালে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শাহাদাত ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর নোয়াখালীজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়।
মন্তব্যসমূহ