লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর দেশব্যাপী ‘ভোট বাঁচাও’ আন্দোলনকে মূলত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আড়াল করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বৃহস্পতিবার উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনে আয়োজিত এক বিশাল দলীয় জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সাফ জানান, রাহুল গান্ধীর এই রাজনৈতিক প্রচার অভিযান বাস্তবে দেশে থাকা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করারই একটি গোপন কৌশল। একই সাথে তিনি দেবভূমি উত্তরাখণ্ডসহ গোটা ভারত থেকে প্রতিটি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে বিতাড়িত করার পক্ষে জোরালো বার্তা দেন।
জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে অমিত শাহ সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, যারা সম্পূর্ণ অবৈধ পথে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে, তাদের এই পবিত্র ভূমি ও দেশ থেকে উচ্ছেদ করা উচিত কি না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার, দেরাদুন ও উধম সিং নগরের মতো জেলাগুলোতে বহিরাগতদের আগমন ও কথিত মুসলিম জনমিতির রূপান্তর নিয়ে বিজেপির ধারাবাহিক প্রচারণার মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কংগ্রেসকে সরাসরি তোষণ রাজনীতির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে অমিত শাহ অভিযোগ তোলেন, বিরোধী দলটি একসময় শুক্রবারের জুমার নামাজের জন্য বিশেষ সরকারি ছুটির প্রস্তাব দিয়েছিল এবং অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের বিরুদ্ধে লাগাতার আইনি ও রাজনৈতিক বাধা তৈরি করেছিল। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস সরকারের নীতিই এমন ছিল যা দেশে অননুমোদিত অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর জনবিন্যাস পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে মদত জুগিয়েছিল; তবে কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পরই এই ধারাবাহিক প্রবণতা কঠোরভাবে বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করা হচ্ছে যে, প্রতিবেশী দেশ ও অন্যান্য রাজ্য থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে জনস্রোত আসার ফলে উত্তরাখণ্ডের স্থানীয় জনমিতি, ঐতিহ্য এবং ব্যবসাবাণিজ্যে মারাত্মক ভারসাম্যহীনতা ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
আসন্ন উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তরাখণ্ডের এই হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে অনুপ্রবেশ, জনমিতি ও ধর্মীয় তোষণনীতির সংবেদনশীল বিষয়গুলো পুনরুজ্জীবিত করে বিজেপি নিজেদের প্রতিষ্ঠিত হিন্দুত্ববাদী ও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক কৌশলকেই আরও ধারালো করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। উন্নয়ন প্রকল্পের ফিরিস্তির পাশাপাশি ধর্মীয় মেরুকরণের আবহ তৈরি করে হিন্দু ভোটারদের একক প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ রাখাই এই মুহূর্তে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের মূল অগ্রাধিকার।














মন্তব্যসমূহ