দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও কেপিআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫৫ হাজারের বেশি অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের আরও দক্ষ ও পেশাদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মহাপরিচালক জানান, দেশের পাঁচ হাজারেরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ডাকাতির চেষ্টা প্রতিহত করা এবং বিভিন্ন এলাকায় অপরাধীদের তৎপরতা ঠেকাতেও তারা সাহসিকতা ও সতর্কতার পরিচয় দিয়েছেন। এসব কর্মকাণ্ড বাহিনীর মর্যাদা বাড়িয়েছে।
তিনি আরও জানান, জাতীয় নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যৌথ প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, তাদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেস্ট প্রথা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া আবাসন সুবিধার উন্নয়ন, নিজ বিভাগে বদলির সুযোগ এবং রেশনের মান ও পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাহিনীর সংস্কার ও সদস্যদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আবদুল মোতালেব বলেন, বর্তমান সময়ের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও আধুনিক করা হয়েছে। এতে শারীরিক সক্ষমতা, অস্ত্র পরিচালনা, নিরাপত্তা পদ্ধতি, ইনসিডেন্ট ম্যানেজমেন্ট, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আইন ও বিধিবিধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আনসার বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় পাওয়া যেমন গর্বের, তেমনি দেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের প্রতি এটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের বিষয়। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সততা, শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
গত ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ৬০ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে অনুমোদিত ৬৯২ জনের মধ্যে ৬৫৪ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন ৬২৭ জন।
প্রশিক্ষণে ফায়ারে প্রথম হয়েছেন কুমিল্লার কাজী আবু সাঈদ, ড্রিলে প্রথম হয়েছেন নোয়াখালীর ফিজুর রহমান এবং সেরা প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচিত হয়েছেন খাগড়াছড়ির সাবিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মহাপরিচালক।
কুচকাওয়াজের শেষ পর্যায়ে তুরস্কের জেন্ডামেরি দলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দাঙ্গা প্রতিরোধবিষয়ক একটি নিরাপত্তা মহড়া প্রদর্শন করা হয়।
মহড়া শেষে মহাপরিচালক বলেন, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় আনসার ব্যাটালিয়ন, আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন ও অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা নিজস্ব সক্ষমতায় দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত। দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাহিনীর সক্ষমতা রয়েছে। সম্প্রতি গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন মোকাবেলার মধ্যেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ, আনসার ও ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত মহাপরিচালক) সাইফুল্লাহ রাসেল, তুরস্ক থেকে আসা প্রশিক্ষণসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষক এবং বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।














মন্তব্যসমূহ