পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী রাইউইন্ড ইজতেমা ২০২৬ শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর)। দুই পর্বে অনুষ্ঠেয় এ ইজতেমার প্রথম পর্ব চলবে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ১২ নভেম্বর, চলবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাইউইন্ড মারকাজে অনুষ্ঠিতব্য এ ইজতেমায় দেশটির বিভিন্ন জেলার মুসল্লিদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা তাবলিগের সাথিরা অংশ নেবেন।
প্রথম পর্বের কার্যক্রম বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। এ সময় বয়ান করবেন পাকিস্তানের মাওলানা আহমেদ বাটলা। মাগরিবের পর বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা আহমেদ লাট সাহেব।
প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার ফজরের পর বয়ান করবেন বাংলাদেশের মাওলানা ওমর ফারুক। তালিমের হালকায় থাকবেন মাওলানা জিয়াউল হক। জুমার নামাজের পর বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা ইসমাইল। আসরের পর বয়ান করবেন বাংলাদেশের মাওলানা রবিউল হক এবং মাগরিবের পর বয়ান করবেন মাওলানা আব্দুর রহমান।
শুক্রবার বিদেশি খিমায় বিভিন্ন ভাষাভাষী মুসল্লিদের জন্য বিশেষ বয়ানের আয়োজন রাখা হয়েছে। এতে আরবি, ইংরেজি, মালয়েশীয়, ইন্দোনেশীয়, ফিলিপিনো, থাই, বাংলা, ফরাসি, উর্দু, তুর্কি, পর্তুগিজ, কিরগিজ ও চীনা ভাষাভাষীদের জন্য পৃথক বয়ানের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি ছাত্র, মাদ্রাসার ছাত্র ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও বিশেষ বয়ানের আয়োজন করা হয়েছে।
শনিবার ফজরের পর বয়ান করবেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ খুরশেদ। জোহরের পর বক্তব্য দেবেন ভাই ফারুক সাহেব। আসরের পর বয়ান করবেন মাওলানা জুহারুল হাসান এবং মাগরিবের পর বয়ান করবেন মাওলানা আহমেদ লাট সাহেব।
এদিন ওলামা, শিক্ষক, বধির, খওয়াস ও বিভিন্ন ভাষাভাষী বিদেশি মুসল্লিদের জন্য বিশেষ মজমা ও পৃথক বয়ানের আয়োজন রয়েছে। এসব আয়োজনে আরবি, ইংরেজি, বাংলা, ফরাসি, তুর্কি, কিরগিজ, মালয়েশীয়, থাই, ফিলিপিনো ও পর্তুগিজ ভাষাভাষীদের জন্য নির্ধারিত বক্তারা বয়ান করবেন। বিদেশি তোলাবা বা শিক্ষার্থীদের জন্যও পৃথক আয়োজন রাখা হয়েছে।
রোববার সকালে হেদায়েতের বয়ান করবেন মাওলানা জিয়াউল হক সাহেব। এরপর মাওলানা জুহারুল হাসানের দোয়ার মধ্য দিয়ে প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটবে।
রাইউইন্ড মারকাজ পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাইউইন্ড শহরে অবস্থিত। লাহোর শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এর অবস্থান। তাবলিগ জামাতের অন্যতম বৃহৎ বার্ষিক জমায়েত হিসেবে পরিচিত এ ইজতেমা।
আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের আগে রাইউইন্ড ইজতেমা এক পর্বে অনুষ্ঠিত হতো। অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ইজতেমার মাঠ ও আশপাশের সড়কে চাপ সৃষ্টি হয়। পরে জনসমাগম, যানবাহন চলাচল, খাবার, পানি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সহজ করতে দুই পর্বে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকে পাকিস্তানের বিভিন্ন জেলার মুসল্লিদের আলাদা পর্বে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এ বছর প্রথম পর্বের সমাপনী দোয়া অনুষ্ঠিত হবে ৮ নভেম্বর সকালে। দ্বিতীয় পর্বের সমাপনী দোয়া হবে ১৫ নভেম্বর। পাকিস্তানের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে ইজতেমার সমাপনী দোয়া সরাসরি সম্প্রচার করা হয়ে থাকে।
এদিকে, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।














মন্তব্যসমূহ