সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ১৮টি রিসোর্টের কারণে বনের পরিবেশ ও বন্য প্রাণীর ক্ষতি হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী লায়ন শেখ ফরিদুল ইসলাম। একই সঙ্গে রিসোর্টগুলোর আইনগত বৈধতা যাচাই এবং সেখানে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সরকার।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনের আওতাধীন এলাকায় এসব রিসোর্ট সরেজমিনে পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) এবং বন বিভাগের আওতাধীন এলাকায় অবৈধভাবে রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের বাস্তব অবস্থা যাচাই করতেই তাঁর এই পরিদর্শন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, রিসোর্টগুলোতে শব্দদূষণ হচ্ছে কি না, হরিণ শিকারসহ বন্য প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর কোনো কর্মকাণ্ড চলছে কি না, সেসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। কোনো রিসোর্টের কার্যক্রমে পরিবেশের ক্ষতি কিংবা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষ করে বনের বন্য প্রাণীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, এমন কোনো কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
রিসোর্ট পরিচালনায় পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, সুন্দরবনসংলগ্ন রিসোর্টগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জেনারেটর চালিয়ে শব্দদূষণ সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়।
এ ছাড়া রিসোর্টগুলোর অবস্থান পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার মধ্যে হওয়ায় সেগুলোর অনুমোদন ও আইনগত অবস্থান যাচাই করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরেজমিন পরিদর্শনের সময় সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে, এমন কোনো বিষয় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর নজরে আসেনি বলে জানিয়েছেন লায়ন শেখ ফরিদুল ইসলাম।
তবে শুধু প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। পরিদর্শনে পাওয়া তথ্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনা করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, মন্ত্রণালয়ে ফিরে বৈঠকের মাধ্যমে রিসোর্টগুলোর বৈধতা এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এরপর এসব স্থাপনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত ৪ অক্টোবর সুন্দরবনের আশপাশে গড়ে ওঠা ১৮টি রিসোর্ট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল পরিবেশ অধিদপ্তর।
রিসোর্টগুলোর আইনগত বৈধতা ও পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
এর ধারাবাহিকতায় এবার সরেজমিনে রিসোর্টগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী।
তবে পূর্বের বন্ধের ঘোষণা বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সরবরাহ করা প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
মন্তব্যসমূহ