ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

৬৬০৮ কোটি টাকায় পুলিশের জন্য কেনা হবে ৫৮৩০ যানবাহন

৬৬০৮ কোটি টাকায় পুলিশের জন্য কেনা হবে ৫৮৩০ যানবাহন
ফাইল ছবি
ফলো করুন

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে পাঁচ হাজার ৮৩০টি নতুন যানবাহন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য দুটি প্রকল্পের আওতায় ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। এসব যানবাহনের মধ্যে থাকবে সাধারণ টহল গাড়ির পাশাপাশি দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী যান, দুর্গম এলাকায় চলাচলের উপযোগী গাড়ি ও বিশেষায়িত যানবাহন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভায় মোট ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

সভা শেষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের যানবাহন কেনার পরিকল্পনা তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যেই নতুন যানবাহন সংগ্রহ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুলিশের জন্য ৪ হাজার ৮২৯টি অপারেশনাল যানবাহন কেনায় ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা।

অন্যদিকে এক হাজার একটি বিশেষায়িত যানবাহন কিনতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্পগুলোর সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে সরকার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক পুলিশ স্টেশনের আওতায় প্রায় এক লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ।

অথচ এসব থানার জন্য বর্তমানে যানবাহন রয়েছে মাত্র এক হাজার ২৩৭টি। সেই হিসাবে প্রতিটি থানায় গড়ে দুটিরও কম গাড়ি রয়েছে।

বিদ্যমান যানবাহনের প্রায় ৬৪ শতাংশই ১০ বছরের বেশি পুরোনো। ফলে নিয়মিত টহল, অপরাধ দমন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সমস্যার মুখে পড়তে হয় পুলিশকে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক থানায় মাত্র একটি পিকআপ ভ্যান রয়েছে। পর্যাপ্ত যানবাহন ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করা কঠিন।

বিশেষায়িত যানবাহন কেনার প্রকল্পে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক গাড়ি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী যান বা রায়ট কন্ট্রোল ভেহিকল, দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় চলাচলের উপযোগী অল-টেরেইন ভেহিকল (এটিভি), মোবাইল কমান্ড সেন্টার এবং ক্রাইম সিন ভ্যান।

দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী যান জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে এটিভির মাধ্যমে সাধারণ যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী এলাকাতেও অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

মোবাইল কমান্ড সেন্টার ভ্রাম্যমাণ নিয়ন্ত্রণকক্ষ হিসেবে কাজ করবে। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রযুক্তির সাহায্যে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন ইউনিটের কার্যক্রম সমন্বয় করা যাবে।

এ ছাড়া ক্রাইম সিন ভ্যানের মাধ্যমে অপরাধস্থল থেকে আলামত ও প্রমাণ সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

দেশের বিস্তৃত নদীপথে পুলিশের কার্যক্রম জোরদার করতে স্পিডবোট ও দেশীয় নৌকা সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তাও প্রকল্পে তুলে ধরা হয়েছে।

এসব জলযান নদীপথে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে।

নতুন যানবাহন সংগ্রহের পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পে ৬৫০ জনকে হালকা যানবাহন চালনা ও মেকানিক প্রশিক্ষণ, ৩০০ জনকে ভারী যানবাহন চালনা ও মেকানিক প্রশিক্ষণ এবং ৫০ জনকে যানবাহন মেরামতের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

অন্যদিকে বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে ৯১০ জনকে ড্রাইভিং ও মেকানিক প্রশিক্ষণ এবং আরও ৫০ জনকে মেকানিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, আধুনিক যানবাহন ও প্রশিক্ষিত জনবল পুলিশের কার্যক্রমের গতি বাড়াতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দুর্গম এলাকায় অভিযান এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে।

ট্যাগ : বাংলাদেশ পুলিশ একনেক

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


৬৬০৮ কোটি টাকায় পুলিশের জন্য কেনা হবে ৫৮৩০ যানবাহন

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে পাঁচ হাজার ৮৩০টি নতুন যানবাহন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য দুটি প্রকল্পের আওতায় ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। এসব যানবাহনের মধ্যে থাকবে সাধারণ টহল গাড়ির পাশাপাশি দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী যান, দুর্গম এলাকায় চলাচলের উপযোগী গাড়ি ও বিশেষায়িত যানবাহন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভায় মোট ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

সভা শেষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের যানবাহন কেনার পরিকল্পনা তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যেই নতুন যানবাহন সংগ্রহ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুলিশের জন্য ৪ হাজার ৮২৯টি অপারেশনাল যানবাহন কেনায় ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা।

অন্যদিকে এক হাজার একটি বিশেষায়িত যানবাহন কিনতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্পগুলোর সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে সরকার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক পুলিশ স্টেশনের আওতায় প্রায় এক লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ।

অথচ এসব থানার জন্য বর্তমানে যানবাহন রয়েছে মাত্র এক হাজার ২৩৭টি। সেই হিসাবে প্রতিটি থানায় গড়ে দুটিরও কম গাড়ি রয়েছে।

বিদ্যমান যানবাহনের প্রায় ৬৪ শতাংশই ১০ বছরের বেশি পুরোনো। ফলে নিয়মিত টহল, অপরাধ দমন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সমস্যার মুখে পড়তে হয় পুলিশকে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক থানায় মাত্র একটি পিকআপ ভ্যান রয়েছে। পর্যাপ্ত যানবাহন ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করা কঠিন।

বিশেষায়িত যানবাহন কেনার প্রকল্পে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক গাড়ি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী যান বা রায়ট কন্ট্রোল ভেহিকল, দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় চলাচলের উপযোগী অল-টেরেইন ভেহিকল (এটিভি), মোবাইল কমান্ড সেন্টার এবং ক্রাইম সিন ভ্যান।

দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী যান জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে এটিভির মাধ্যমে সাধারণ যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী এলাকাতেও অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

মোবাইল কমান্ড সেন্টার ভ্রাম্যমাণ নিয়ন্ত্রণকক্ষ হিসেবে কাজ করবে। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রযুক্তির সাহায্যে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন ইউনিটের কার্যক্রম সমন্বয় করা যাবে।

এ ছাড়া ক্রাইম সিন ভ্যানের মাধ্যমে অপরাধস্থল থেকে আলামত ও প্রমাণ সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

দেশের বিস্তৃত নদীপথে পুলিশের কার্যক্রম জোরদার করতে স্পিডবোট ও দেশীয় নৌকা সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তাও প্রকল্পে তুলে ধরা হয়েছে।

এসব জলযান নদীপথে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে।

নতুন যানবাহন সংগ্রহের পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পে ৬৫০ জনকে হালকা যানবাহন চালনা ও মেকানিক প্রশিক্ষণ, ৩০০ জনকে ভারী যানবাহন চালনা ও মেকানিক প্রশিক্ষণ এবং ৫০ জনকে যানবাহন মেরামতের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

অন্যদিকে বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে ৯১০ জনকে ড্রাইভিং ও মেকানিক প্রশিক্ষণ এবং আরও ৫০ জনকে মেকানিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, আধুনিক যানবাহন ও প্রশিক্ষিত জনবল পুলিশের কার্যক্রমের গতি বাড়াতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দুর্গম এলাকায় অভিযান এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ