ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে সংকট, সমঝোতার আহ্বান প্রেসিডেন্টের

ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে সংকট, সমঝোতার আহ্বান প্রেসিডেন্টের
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

নির্বাচন শেষ হলেও ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট, কারও নেতৃত্বাধীন জোটই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে আরেকটি নির্বাচন এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোকে মতপার্থক্য কমিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।

গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন হারজগ। এখন তাঁর সামনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ নেতানিয়াহু নাকি আইজেনকোটকে দেওয়া হবে।

১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে কোনো প্রধান জোটই সেই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারেনি।

নির্বাচনী ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ৪৮। আর আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন।

ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো।

নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের সময় রাজনৈতিক নেতাদের বাস্তবতা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট হারজগ।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক পক্ষগুলোকে মেনে নিতে হবে যে তাদের সব প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার পূরণ করা সম্ভব হবে না। নতুন নির্বাচন এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমঝোতায় আসতে হবে।’

নির্বাচনে কোনো জোট স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

হারজগ বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় নির্বাচনে যখন কোনো স্পষ্ট বিজয়ী নেই, তখন আমি সৃজনশীল চিন্তা, সাহস ও সদিচ্ছার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল রাষ্ট্রই বিজয়ী হয়।’

এবারের নির্বাচনে ইসরায়েলের আরব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব। এই জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় সেখানে থেকে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের বংশধর।

নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে। ফলে সরকার গঠনের আলোচনায় তাদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নেতানিয়াহুর সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে আসা এসব দলের সমর্থন আইজেনকোটের নেতৃত্বে বিকল্প সরকার গঠনের আলোচনায় ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে সম্ভাব্য জোট গঠনের ক্ষেত্রে দলগুলোর পারস্পরিক মতপার্থক্য এখনো বড় বাধা।

এদিকে নির্বাচনের ফল ঘিরে আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।

নির্বাচনের দিন খামভর্তি অর্থসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনার উল্লেখ করে তিনি আরব দলগুলোর নেতাদের বিরুদ্ধে কাতারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেন।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে উপস্থাপন করেননি তিনি। ইসরায়েলের নির্বাচন কমিশনও নির্বাচনের ফল পরিবর্তন হওয়ার মতো অনিয়মের প্রমাণ পায়নি।

অন্যদিকে নেতানিয়াহুর নিজের সহযোগীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও নির্বাচনের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় তাঁর সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি এমন একজন নেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন, যিনি প্রয়োজনীয় সমর্থন সংগ্রহ করতে পারবেন বলে বিবেচিত হবেন।

কিন্তু প্রথম সুযোগ পাওয়া নেতা সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে অন্য নেতাকেও সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলে ইসরায়েলকে আবারও নির্বাচনের পথে যেতে হতে পারে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গত ২৭ অক্টোবর প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ইসরায়েলে। সেই নির্বাচনের ফল এখন দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নতুন সমঝোতার মুখোমুখি করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে আরেকটি নির্বাচন এড়ানো এবং স্থিতিশীল সরকার গঠনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।

সূত্র : খালিজ টাইমস

ট্যাগ : বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েল নির্বাচন ২০২৬ আইজ্যাক হারজগ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে সংকট, সমঝোতার আহ্বান প্রেসিডেন্টের

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

নির্বাচন শেষ হলেও ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট, কারও নেতৃত্বাধীন জোটই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে আরেকটি নির্বাচন এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোকে মতপার্থক্য কমিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।

গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন হারজগ। এখন তাঁর সামনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ নেতানিয়াহু নাকি আইজেনকোটকে দেওয়া হবে।

১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে কোনো প্রধান জোটই সেই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারেনি।

নির্বাচনী ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ৪৮। আর আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন।

ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো।

নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের সময় রাজনৈতিক নেতাদের বাস্তবতা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট হারজগ।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক পক্ষগুলোকে মেনে নিতে হবে যে তাদের সব প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার পূরণ করা সম্ভব হবে না। নতুন নির্বাচন এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমঝোতায় আসতে হবে।’

নির্বাচনে কোনো জোট স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

হারজগ বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় নির্বাচনে যখন কোনো স্পষ্ট বিজয়ী নেই, তখন আমি সৃজনশীল চিন্তা, সাহস ও সদিচ্ছার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল রাষ্ট্রই বিজয়ী হয়।’

এবারের নির্বাচনে ইসরায়েলের আরব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব। এই জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় সেখানে থেকে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের বংশধর।

নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে। ফলে সরকার গঠনের আলোচনায় তাদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নেতানিয়াহুর সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে আসা এসব দলের সমর্থন আইজেনকোটের নেতৃত্বে বিকল্প সরকার গঠনের আলোচনায় ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে সম্ভাব্য জোট গঠনের ক্ষেত্রে দলগুলোর পারস্পরিক মতপার্থক্য এখনো বড় বাধা।

এদিকে নির্বাচনের ফল ঘিরে আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।

নির্বাচনের দিন খামভর্তি অর্থসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনার উল্লেখ করে তিনি আরব দলগুলোর নেতাদের বিরুদ্ধে কাতারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেন।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে উপস্থাপন করেননি তিনি। ইসরায়েলের নির্বাচন কমিশনও নির্বাচনের ফল পরিবর্তন হওয়ার মতো অনিয়মের প্রমাণ পায়নি।

অন্যদিকে নেতানিয়াহুর নিজের সহযোগীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও নির্বাচনের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় তাঁর সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি এমন একজন নেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন, যিনি প্রয়োজনীয় সমর্থন সংগ্রহ করতে পারবেন বলে বিবেচিত হবেন।

কিন্তু প্রথম সুযোগ পাওয়া নেতা সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে অন্য নেতাকেও সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলে ইসরায়েলকে আবারও নির্বাচনের পথে যেতে হতে পারে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গত ২৭ অক্টোবর প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ইসরায়েলে। সেই নির্বাচনের ফল এখন দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নতুন সমঝোতার মুখোমুখি করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে আরেকটি নির্বাচন এড়ানো এবং স্থিতিশীল সরকার গঠনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।

সূত্র : খালিজ টাইমস


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ