ঢাকা ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কিউবায় তেল শোধনাগারে দুর্ঘটনা, ভয়াবহ জ্বালানি সংকট

বাংলা ভিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 10

রাজধানী হাভানায় অবস্থিত নিকো লোপেজ তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন লাগার পর আকাশে দূর থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। এ ঘটনায় দেশটিতে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শনিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাভানা উপসাগরের কাছে অবস্থিত নিকো লোপেজ রিফাইনারিতে আগুন লাগে। তবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইতোমধ্যে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। আগুন লাগার সময় কাছাকাছি দুটি তেলবাহী জাহাজ নোঙর করা ছিল বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এ অগ্নিকাণ্ড এমন সময় ঘটল যখন কিউবা ইতোমধ্যেই তীব্র জ্বালানি সংকটে ভুগছে। দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। আগে ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল কিউবায় পাঠাত। তবে গত ৩ জানুয়ারি রাজধানী কারাকাসে অভিযানে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর সরবরাহে পরিবর্তন আসে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার নেতাদের ‘সমঝোতায়’ আসার আহ্বান জানিয়ে অন্যথায় কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে কিউবাকে তেল বিক্রি করে এমন দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণাও দিয়েছে ওয়াশিংটন।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে দেশটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় পড়েছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ডায়ালাইসিস সেবা ও পানি পাম্পিং স্টেশনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিমান জ্বালানির সংকটের কারণে কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন কিউবাগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সম্প্রতি অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কিউবা কর্তৃপক্ষ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবহন ও পর্যটন খাতে সাময়িক পরিবর্তন এনেছে।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে একতরফা অর্থনৈতিক চাপের চরম রূপ হিসেবে উল্লেখ করে কিউবার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে কমিউনিস্ট নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সরকারকে উৎখাত করার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক টানাপোড়েনপূর্ণ। ১৯৬০ সাল থেকে কিউবার ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। যদিও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, পরবর্তীতে ট্রাম্প প্রশাসন তার অনেকগুলোই বাতিল করে দেয়।

শেয়ার করুন

কিউবায় তেল শোধনাগারে দুর্ঘটনা, ভয়াবহ জ্বালানি সংকট

আপডেট: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানী হাভানায় অবস্থিত নিকো লোপেজ তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন লাগার পর আকাশে দূর থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। এ ঘটনায় দেশটিতে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শনিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাভানা উপসাগরের কাছে অবস্থিত নিকো লোপেজ রিফাইনারিতে আগুন লাগে। তবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইতোমধ্যে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। আগুন লাগার সময় কাছাকাছি দুটি তেলবাহী জাহাজ নোঙর করা ছিল বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এ অগ্নিকাণ্ড এমন সময় ঘটল যখন কিউবা ইতোমধ্যেই তীব্র জ্বালানি সংকটে ভুগছে। দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। আগে ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল কিউবায় পাঠাত। তবে গত ৩ জানুয়ারি রাজধানী কারাকাসে অভিযানে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর সরবরাহে পরিবর্তন আসে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার নেতাদের ‘সমঝোতায়’ আসার আহ্বান জানিয়ে অন্যথায় কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে কিউবাকে তেল বিক্রি করে এমন দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণাও দিয়েছে ওয়াশিংটন।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে দেশটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় পড়েছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ডায়ালাইসিস সেবা ও পানি পাম্পিং স্টেশনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিমান জ্বালানির সংকটের কারণে কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন কিউবাগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সম্প্রতি অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কিউবা কর্তৃপক্ষ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবহন ও পর্যটন খাতে সাময়িক পরিবর্তন এনেছে।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে একতরফা অর্থনৈতিক চাপের চরম রূপ হিসেবে উল্লেখ করে কিউবার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে কমিউনিস্ট নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সরকারকে উৎখাত করার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক টানাপোড়েনপূর্ণ। ১৯৬০ সাল থেকে কিউবার ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। যদিও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, পরবর্তীতে ট্রাম্প প্রশাসন তার অনেকগুলোই বাতিল করে দেয়।