ভোট দেওয়ার সময় যে ভুলে বাতিল হতে পারে আপনার ভোট

- আপডেট: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 10
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণে গুরুতর অনিয়ম, সহিংসতা বা ফলাফল প্রভাবিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারে কমিশন। প্রয়োজনে পুরো আসনের ভোটও স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতা রয়েছে ইসির।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোট বাতিল হওয়া মানেই শুধু একটি কেন্দ্রের ফল স্থগিত নয়, বরং পুরো নির্বাচনপ্রক্রিয়ার ওপর আস্থার প্রশ্ন উঠে যায়। সে কারণেই ভোটারদের নিরাপত্তা, প্রার্থীদের অভিযোগ, মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কমিশনকে অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কমিশনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ভোটের স্বচ্ছতা নষ্ট হলে বা সুষ্ঠু ফল নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়লে ভোট বাতিল ছাড়া বিকল্প থাকে না।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটকেন্দ্র দখল, মারামারি, ককটেল বা বোমা হামলা, গুলিবর্ষণ, ব্যালট ছিনতাই কিংবা ব্যাপক ভাঙচুরের মতো সহিংস ঘটনা ঘটলে ভোটগ্রহণ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে প্রিসাইডিং অফিসার তাৎক্ষণিকভাবে ভোট স্থগিত করতে পারেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে কমিশন ওই কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে পুনরায় ভোটের সিদ্ধান্ত দিতে পারে।
ব্যালট পেপার নষ্ট হয়ে যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ভোট বাতিলের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। আইন অনুযায়ী, ব্যালট বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে ওই কেন্দ্রের ফল গ্রহণযোগ্য থাকে না। একইভাবে বুথ দখল করে একযোগে জালভোট দেওয়া, একজনের একাধিকবার ভোট প্রদান কিংবা সংঘবদ্ধ কারচুপির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সেটি ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার’ নির্বাচনের পরিপন্থি হিসেবে বিবেচিত হয় এবং ফলাফল বাতিল করা হয়।
ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া, হুমকি দেওয়া বা জোরপূর্বক ভোটে প্রভাব বিস্তারের ঘটনাও ভোট বাতিলের কারণ হতে পারে। এসব পরিস্থিতি ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে এবং নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।
কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তাদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ, ইচ্ছাকৃত ত্রুটি, নিয়ম লঙ্ঘন বা ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগও সামনে আসে। তদন্তে কর্মকর্তাদের অনিয়ম বা কারচুপি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট বাতিলের নজির রয়েছে।
প্রযুক্তিগত সমস্যাও ভোট স্থগিত বা বাতিলের কারণ হতে পারে। ব্যালট পেপার ভুল ছাপা, সিল বা নির্বাচনি সরঞ্জামের ত্রুটি, ইভিএম বিকল হওয়া কিংবা তথ্যের গরমিলের ঘটনায় অতীতে একাধিক কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কোনো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভোটার ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে ভোটগ্রহণ বন্ধ করার ক্ষমতা রয়েছে নির্বাচন কর্মকর্তাদের। পাশাপাশি কোনো প্রার্থীর অভিযোগ বা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে ভোট বা ফলাফল স্থগিত হলেও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র বা আসনের ভোট বাতিল বা স্থগিত হতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি নজরদারি, সিসিটিভি ব্যবহার, পর্যবেক্ষক নিয়োগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। কমিশনের লক্ষ্য, যেন কোনো কেন্দ্রের ভোট বাতিলের পরিস্থিতি তৈরি না হয় এবং নির্বাচন হয় স্বচ্ছ, নিরবচ্ছিন্ন ও বিশ্বাসযোগ্য। এ লক্ষ্যে সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার আট লাখের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে বলেন, সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ব্যালট বা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, প্রযুক্তিগত ত্রুটি কিংবা এমন কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি, যেখানে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা যায় না—এসব ক্ষেত্রে ভোটের পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিকে ‘এক্সট্রা অর্ডিনারি সিচুয়েশন’ হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজন হলে ভোট বন্ধ বা বাতিল করা হয়।

























